বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৯, ২০১৬ 

মহানবী (সা.) বলেন : দু’টি কাজের চেয়ে উত্তম কোনো পুণ্যের কাজ নেই : আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহ্র বান্দাদের উপকার করা। আর দু’টি কাজের চেয়ে জঘন্য কোনো কাজ নেই : আল্লাহ্র প্রতি র্শিক করা আর আল্লাহ্র বান্দাদের ক্ষতি করা।

মহানবী (সা.) বলেন : জ্ঞান হলো গুপ্ত ভা-ারতুল্য। আর তার চাবিকাঠি হলো প্রশ্ন। অতএব, প্রশ্ন কর, আল্লাহ্ তোমাদের অনুগ্রহ করবেন। কারণ, চার ব্যক্তির জন্য পুরস্কার ও পারিশ্রমিক রয়েছে : প্রশ্নকারী, বক্তা, শ্রোতা আর তাদের ভক্তিকারী।

মহানবী (সা.) ইমাম আলী (আ.)-কে উপদেশ দেন : হে আলী! স্বীয় পরিবার, প্রতিবেশী এবং যাদের সাথে ওঠাবসা ও কথাবার্তা বল তাদের সাথে সদাচরণ করবে যাতে আল্লাহ্র নিকটে সেগুলো সঞ্চিত দেখতে পাও।

মহানবী (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি নিজেকে নিঃস্ব হিসাবে প্রকাশ করে সে অভাবগ্রস্ত হয়।
ইমাম আলী (আ.) বলেন : যে ন্যায়পরায়ণতাকে এড়িয়ে চলে সে স্বেচ্ছাচারিতা করে। অল্প তুষ্টি মানুষের জন্য কতই না চমৎকার গুণ! আর মানুষের সঙ্গে থাকা নিকৃষ্টতম জিনিস হলো হিংসা। আর নিরাশ হওয়া দূষণীয় কাজ। কৃপণতা ভর্ৎসনা আনে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : যে ব্যক্তি সংযমী হয়ে চলে সে নিরাপদ থাকে। আর যে ব্যক্তি সত্যকে অতিক্রম করে সে সংকীর্ণতার মধ্যে নিপতিত হয়। আর যে নিজের অংশ রক্ষা করে সে অধিক স্থায়ী হয়।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জানতে চায় আল্লাহ্র কাছে তার মর্যাদা কেমন, সে লক্ষ্য করবে পাপসমূহের বিপরীতে তার অবস্থা কেমন।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে অন্যের থেকে উপদেশ গ্রহণ করে এবং উপদেশ মেনে নেয়। নিজেকে সৎ চরিত্র দ্বারা গড়ে তোল। কারণ, সৎ চরিত্রের বান্দা রোযাদার এবং রাত্রি জাগরণকারীর মর্যাদা লাভ করে।

ইমাম হাসান (আ.) বলেন : হে আল্লাহ্্র বান্দারা! আল্লাহ্্কে ভয় করে চল। আর জেনে রাখ, যে আল্লাহ্্কে ভয় করে চলে তিনি তাকে ফেতনা ও পরীক্ষা থেকে উত্তমরূপে উত্তীর্ণ করেন এবং তাকে কাজে সফল করেন। আর সত্যের পথকে তার জন্য মসৃণ করেন এবং তার হুজ্জাত (প্রমাণ)-কে জয়ী করেন এবং তার মুখম-ল শুভ্র করেন এবং তার মনের চাওয়া পূরণ করেন, আর সে ‘নবীগণ, সত্যবাদিগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মপরায়ণদের মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ্্ নেয়ামত দান করেছেন তাদের সাথে থাকবে। আর বন্ধু হিসাবে তাঁরা কতই না উত্তম!’ (সূরা নিসা : ৬৯)

ইমাম হোসাইন (আ.) জনৈক আনসারকে বলেন : … এই তিনজনের একজন ব্যতীত কারো কাছে প্রয়োজনের কথা বল না : দীনদার লোক অথবা ব্যক্তিত্ববান অথবা বংশ-পরিচয়সম্পন্ন। কেননা, দীনদার লোক নিজের দীন রক্ষার্থে তোমার প্রয়োজন পূরণ করবে। আর ব্যক্তিত্ববান তার পৌরুষ ও ব্যক্তিত্বের কারণে লজ্জা করে। আর বংশ-পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তি জানে যে, তুমি স্বীয় সম্মান রক্ষায় তার শরণাপন্ন হয়েছ। তাই সে তোমার প্রয়োজন পূরণ করে তোমার সম্মান রক্ষা করবে।

ইমাম আলী ইবনুল হোসাইন (আ.) বলেন : …আল্লাহ্্র কসম! যে জনপদই আল্লাহ্্র অবাধ্যতার পথে চলেছে, তা আযাবের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আর যে জনপদই দুনিয়াকে পরকালের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে তা-ই শোচনীয় পরিণতি এবং খারাপ ফল পেয়েছে। আল্লাহ্্ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস হলো আনুগত্যের জমজ ভাইয়ের মতো। যে ব্যক্তি আল্লাহ্্কে চিনবে সে তাঁর ভয় করবে। কাজেই ভয় তাকে কাজে প্রবৃত্ত করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্্র আরেফগণ এবং তাঁদের অনুসারীরা হলো তারাই, যারা আল্লাহ্্কে চিনেছে এবং তাঁর জন্যই কাজ করেছে এবং তাঁর অভিমুখী হয়েছে। আর আল্লাহ্্ও বলেছেন : ‘নিশ্চয় জ্ঞানীরাই আল্লাহ্্কে ভয় করে।’ (সূরা ফাতির : ২৮)

ইমাম বাকের (আ.) বলেন : ন্যায়ের পক্ষে উত্থান কর এবং যাতে তোমার কোনো উপকারে নেই তা থেকে দূরে থাক। আর তোমার শত্রু থেকে দূরে থাক এবং তোমার বন্ধু যে সম্প্রদায় থেকেই হোক, তার থেকে সতর্ক থাক শুধু এমন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহ্্র ভয় করে। ব্যভিচারীর সাথে ওঠাবসা করবে না এবং তাকে তোমার গোপন কথা অবগত করবে না। আর তাদের সাথেই পরামর্শ করবে যারা আল্লাহ্্র ভয় করে।

ইমাম বাকের (আ.) বলেন : যদি সদাচার করতে না পার তবে কারো সাথে লেনদেন কর না। এটাই তোমার জন্য উত্তম।
ইমাম বাকের (আ.) বলেন : ইমাম (আ.) বলেন : যুলুম তিন রকম। এক রকম যুলুম রয়েছে যা আল্লাহ্্ ক্ষমা করেন না। আরেক রকম যুলুম রয়েছে যা আল্লাহ্্ ক্ষমা করেন। আর অপর এক ধরনের যুলুম রয়েছে যা আল্লাহ্্ ছেড়ে দেন না। যে যুলুম আল্লাহ্্ ক্ষমা করেন না সেটা হলো আল্লাহ্্র প্রতি র্শিক। আর যে যুলুম আল্লাহ্্ ক্ষমা করে দেন তা হলো ব্যক্তির নিজের প্রতি যুলুম যা তার ও আল্লাহ্্র মাঝের ব্যাপার। আর যে যুলুমকে আল্লাহ্্ ছেড়ে দেন না তা হলো সেই ঋণ যা বান্দারা পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।

(তুহাফুল উকূল থেকে সংকলিত)
অনুবাদ : আব্দুল কুদ্দুস বাদশা