ইরানের ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের প্রশংসা
পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬

পোপ ফ্রান্সিস ইরানে ইসলামী সংস্কৃতির প্রশংসা করে বলেছেন, এ সংস্কৃতি বিশ্বশান্তির জন্যে অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম ও যৌক্তিকতা বহন করছে। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে বিশ্বশান্তি স্থাপন ও তা টেকসই করে রাখতে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে ইরানের আব্দোলহোসেইন খোসরোপানাহ একজন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে ভ্যাটিকানের সঙ্গে ইসলাম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে এক সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছেন তিনি। তার মতে পোপ ফ্রান্সিস মনে করেন, ইরান ইসলামের এক অসাধারণ সহনশীল সংস্করণ উপস্থাপন করেছে যেখানে শান্তির সঙ্গে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করা সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম সম্পর্কে সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে ব্যাখ্যা করার যে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে একটি সংখ্যালঘু গ্রুপের মাধ্যমে তা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও পাশবিকতা এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই এটা হচ্ছে।
আব্দোলহোসেইন খোসরোপানাহ ভ্যাটিকানে পোপ ও অন্যান্য কার্ডিনালদের সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে মত বিনিময়ের আলোকে বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ায় কট্টরপন্থীদের মধ্যে শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ অনুভূতির তীব্র অভাব থেকে যাচ্ছে এবং তারা অন্যদেরকেও বিপথগামী করছে যা ইরানে ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায়না। ইসলাম থেকে অধৈর্য হয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই এবং যারা এটা করছে তাদের কাজকে পোপ ও তার অনুসারীরা বাতিল করে দেন, নিন্দা জানান এবং অনৈতিক বলেও অভিহিত করেন।
পোপ মনে করেন, ইরানে ইসলাম ও সংস্কৃতির অনুসারীরা যে নৈতিকতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন তা অনুকরণীয়। আব্দোলহোসেইন খোসরোপানাহার নেতৃত্বে মুসলিম প্রতিনিধির কাছে পোপ আরো বলেন, ইসলামের মধ্যে প্রথাগতভাবে সহিংসতা ধারণ করার পরিবর্তে মূলমর্মবাণী উপলব্ধির সময় এসেছে। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে বিশ্বশান্তি স্থাপন ও সহিংসতা এবং সন্ত্রাস দূর করতে আরো আলোচনার ওপরও গুরুত্ব দেন পোপ। পোপ বলেন, ইসলামের সঠিক অনুসারী হয়ে ইরান বিশ্বে ভাল অবস্থায় রয়েছে, শান্তিময় ধর্মজীবনযাত্রা গড়ে তুলেছে, যৌক্তিক এক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে দেশটি। সূত্র: মেহের নিউজ