শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

হাজি কাসেম সোলাইমানির শাহাদাত বার্ষিকী ও বিশ্ব প্রতিরোধদিবস

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ৯, ২০২১ 

সম্পাদকীয় –

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আমরা বিশ্বের মজলুম ও নিপীড়িতদের জন্য নিবেদিত, সাহসী ও আত্মত্যাগী অনন্য সেনানায়ক জেনারেল কাসেম সোলাইমানির কাপুরুষোচিত হাত্যাকা-ের এক বছর পূর্তির (৩ জানুয়ারি) দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছিÑ যিনি ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং অবশেষে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকদের হাতে শাহাদাত বরণ করেছেন।
বিশ^বাসী সাক্ষী যে, জেনারেল কাসেম সোলাইমানি আইএস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে এবং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মূলোৎপাটনের জন্য তাঁর সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন। মুসলিম দেশ ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল Ñ যা দখল করে আইএস ঐ দেশ দু’টিকে তাদের তথাকথিত ইসলামি সরকারের ভূমি বলে ঘোষণা করেছিল Ñ তিনি শাহাদতের সূধা পান না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
জেনারেল সোলাইমানি এমন এক সময় ইরাকে ইসলামি ঐক্যের দুশমনদের হামলার শিকার হন যখন তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে ইরাক সরকারের মেহমান হিসেবে বাগদাদে গিয়েছিলেন। কিন্তু বলদর্পী মার্কিন সরকারের নীতি হচ্ছে তাদের প্রতিপক্ষের লোকদেরকে যেখানে ও যেভাবে সম্ভব হত্যা করা; এ ক্ষেত্রে তাদের কাছে না মেহমানের মর্যাদা আছে, না কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মর্যাদা আছে, না আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ আছে।
গোটা দুনিয়া প্রত্যক্ষ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীদেরকে কী রকম নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। সে সব বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী কেবল ইরানি জাতির সম্পদ ছিলেন না, বরং তাঁরা ছিলেন সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সম্পদ। কিছুদিন পর পরই তাঁদের একেক জন ইরানের মুসলিম জাতির ও ইসলামের শত্রুদের হাতে হামলার শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করছেন। তাদের সর্বশেষ ও সর্বসাম্প্রতিক কাপুরুষোচিত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন ইরানের শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান ড. মোহসেন ফাখরিজাদে। আমরা এখন এই প্রিয় শহীদের শাহাদাতের চেহ্লামের সময় অতিক্রম করছি।
কিন্তু যারা একটি জাতির বিজ্ঞানীদের হত্যা করে তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? কেন তারা চিন্তার স্বাধীনতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ-বিস্তারের বিরোধী? কেন তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের মোকাবিলায় অস্ত্র ব্যবহার করে?! কেন চিন্তা ও কলমের মোকাবিলায় অস্ত্র ব্যবহার করে? আর কেনই বা তারা মুসলিম দেশগুলোর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে? তাদের লক্ষ্য কি মুসলিম উম্মাহ্কে ও মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল ও অক্ষম করা ছাড়া আর কিছু?
প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামের শত্রুদের এ দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে মসলিম উম্মাহ্ ও ইসলামি দেশগুলোর কর্তব্য কী? ইসলামী উম্মাহ্ ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং ইসলামের শত্রুদের মোকাবেলায় প্রতিরোধের কৌশল অবলম্বনই কি এই ইসলামবিরোধী ও জ্ঞানবিজ্ঞানবিরোধী স্রোতকে মোকাবিলা করার সেরা কর্মকৌশল নয়?
আমরা ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকে এ পর্যন্তকার সকল শহীদের বিদেহী নাফ্সের প্রতি, বিশেষত ইসলামি ইরানের সকল শহীদ, আরো বিশেষ করে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও তাঁর শহীদ সঙ্গীদের এবং শহীদ ফাখরিজাদে ও অন্যান্য শহীদ বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীর মহান বিদেহী নাফ্সের প্রতিÑযাঁরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের পথে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেনÑসালাম পৌঁছে দিচ্ছি।
আমরা একই সাথে সালাম পৌঁছে দিচ্ছি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর মহান ও পবিত্র বিদেহী নাফ্সের প্রতিÑ যাঁর চিন্তাদর্শে ও পবিত্র প্রতিরক্ষাকালীন সময়ে এমন সাহসী ও নির্ভীক সন্তানরা গড়ে উঠেছিলেন এবং যাঁর বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব ও হেদায়াতের ছায়ায় ইসলামি বিপ্লবের বর্তমান নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এমন বিচক্ষণ দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ইসলামের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে বলদর্পিতাবিরোধী কর্মকৌশল এবং মুসলিম উম্মাহ্র শত্রুদের মোকাবিলায় প্রতিরোধের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। মুসলমানদের স্বাধীনতা ও ইসলামকে সমুন্নত রাখতে বলদর্পিতার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাঁরা শহীদ হয়েছেন সেই সব মহান শহীদের রক্তের সাথে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হচ্ছি যে, প্রতি বছর ৩ জানুয়ারি হাজি কাসেম সোলাইমানির শাহাদাত বার্ষিকীকে বিশ্ব প্রতিরোধদিবস হিসেবে উদ্যাপন করতে ভুলব না।

ড. সাইয়্যেদ হাসান সেহাত
সম্পাদক, নিউজলেটার