হযরত আলী (আ.)-এর বাণী- নাহজুল বালাগা থেকে
পোস্ট হয়েছে: জুলাই ২৫, ২০১৩

হযরত আলী (আ.) বলেন : ‘যাবতীয় পাত্র তাতে রাখা বস্তু দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায় তবে ব্যতিক্রম শুধু জ্ঞানের পাত্র। কারণ, জ্ঞানের পাত্র প্রশস্ত হয়ে যায়।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২০৫
হযরত আলী (আ.) বলেন : ‘সহিষ্ণু ব্যক্তি সহিষ্ণুতার ফলে প্রথম যে জিনিসটি (পুরস্কার হিসেবে) লাভ করে তা হচ্ছে এই যে, অজ্ঞ লোকদের বিপক্ষে লোকেরা তার সমর্থক ও সাহায্যকারী হয়ে যায়।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২০৬
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘তুমি ধৈর্যশীল হতে না পারলেও ধৈর্যধারণকারীদের ন্যায় হওয়ার চেষ্টা কর। কারণ, যে কোন লোক অন্য কারো মতো (সদৃশ) হওয়ার চেষ্টা করে সে অচিরেই তাদের মধ্যে গণ্য হবে।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২০৭
হযরত আলী (আ.) বলেন : ‘যে ব্যক্তি নিজের হিসাব নিজে নেয় সে লাভবান হয়। সে নিজেকে ভুলে থাকে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে ভয় পায় সে নিরাপদ হতে পারে। যে উপদেশ গ্রহণ করে সে বিচক্ষণ হয়। আর যে বিচক্ষণ হয় সে বোধ লাভ করে। আর যে বোধশক্তি লাভ করে সে জ্ঞানের অধিকারী হয়।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২০৮
হযরত আলী (আ.) বলেন : ‘আবদ্ধ ঘোটকী যেরূপ দয়াপরবশে স্বীয় বাচ্চার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তেমনিভাবে দুনিয়া রুষ্ট হয়ে যাবার পর আবার আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে।’ এ উক্তিটি করার পর তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করেন : ‘আমি ইচ্ছা করলাম, সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতৃত্ব দান করতে ও দেশের অধিকারী করতে।’-সূরা কাসাস : ২০৯
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২০৯
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘হে লোকসকল! যে ব্যক্তি বসন গুছিয়ে নিয়ে ভালোভাবে দৌড়ায়, সম্মুখে অগ্রসর হতে গিয়ে ভেবে-চিন্তে এগোয়, ভীতগ্রস্ত হওয়ার পূর্বেই ব্যবস্থা নেয়, গন্তব্যের দিক থেকে কোন পাল্টা হামলার প্রতি নজর রাখে, উৎসের পরিণামের দিকে লক্ষ্য করে এবং মৃত্যুর পর কী পরিণতি হবে সে দিকে দৃষ্টি রাখে- তার ন্যায় আল্লাহকে ভয় কর।
–নাহাজুল বালাগা, উক্তি ২১০
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘মানুষের জ্ঞানের একটি হিংসাত্মক কাজ হলো আত্মম্ভরিতা।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২১২
হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘মতবিরোধ সুষ্ঠু ধারণা বা সিদ্ধান্ত বরবাদ করে দেয়।’
–নাহজুল বালাগা, উক্তি ২১৫
(নিউজলেটার, জানুয়ারি ১৯৯২)