শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৯, ২০২০ 

 
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এমন এক সময় মসজিদে প্রবেশ করেন যখন সেখানে দু’টি বৈঠক চলছিল। একটি বৈঠক ছিল দ্বীনী ‘ইল্মের এবং অপর বৈঠকটি ছিল দো‘আর। তখন তিনি এরশাদ করেন : ‘দু’টি বৈঠকের ফলই উত্তম; একটিতে আল্লাহ্কে ডাকা হচ্ছে এবং অপরটিতে যারা জানে না তাদেরকে দ্বীনী ‘ইল্ম’ ও আহ্কাম্ শিক্ষা দেয়া হচ্ছে; এই (দ্বীনী শিক্ষার) বৈঠকটি অধিকতর উত্তম। আমি শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছি।’ এরপর তিনি তাদের পাশে বসে পড়লেন।
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন : ‘তোমাদের শিশুদেরকে সর্বপ্রথম যে শব্দাবলি শিক্ষা দেবে তা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।’
হযরত ইমাম হাসান ‘আসকারী (আ.) হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) থেকে উদ্ধৃত করেন যে, তিনি এরশাদ করেন : ‘আমাদের অনুসারীদের মধ্যে যে কেউ আমাদের ‘ইল্ম’ অবগত হবে এবং কোনো জাহিলকে হেদায়াত করবে ও তাকে আমাদের শরী‘আত্ শিক্ষা দেবে সে বেহেশতে আমাদের সাথে থাকবে।’
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন : ‘কাউকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করা হলে সে যদি তা কবূল না করে অথবা কবূল করেও খেতে না যায় তাহলে তা নিষ্ঠুরতা।’
ইমাম আলী (আ.) বলেন : ‘কোনো ব্যক্তি যখন কোনো অকাট্য জ্ঞানের কথা শ্রবণ করে এবং এরপর তা অন্যের কাছে বর্ণনা করে বা তদনুযায়ী আমল করে, সে ক্ষেত্রে তা এক বছরের (নফল) ইবাদতের চেয়ে উত্তম।’
এক ব্যক্তি আমীরুল্ মু‘মিনীন্ হযরত আলী (আ.)-এর কাছে আরয করল : ‘আমি ব্যবসা করতে চাই।’ তিনি এরশাদ করলেন : ‘তুমি কি দ্বীনী ‘ইল্ম্ (ফিকাহ্) আয়ত্ত করেছ? সে বলল : ‘শিক্ষা করব।’ তিনি বললেন : তোমার জন্য আফসোস্! প্রথমে ফিকাহ্ শিক্ষা করো, এরপর ব্যবসা করো। কারণ, যে ব্যক্তি বেচাকেনা করে, কিন্তু হালাল-হারামের বিষয়াদি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে না সে রিবা’র ঘূর্ণাবর্তে নিপতিত হয়।’
হযরত ইমাম বাকের (আ.) এরশাদ করেন : ‘জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহ্র শপথ, তুমি যদি কোনো সত্যবাদী লোকের কাছ থেকে হালাল ও হারাম সংক্রান্ত একটি হাদীস শিক্ষা করো তাহলে তা এ দুনিয়া এবং তার সমস্ত স্বর্ণ ও রৌপ্যের চেয়েও উত্তম।’
হযরত ইমাম বাকের (আ.) এরশাদ করেন : ‘চারটি জিনিস এমন যার স্বল্প পরিমাণও অনেক : আগুন, নিদ্রা, রোগ ও দুশমনী। (অর্থাৎ এ চারটি জিনিসের যে কোনোটির স্বল্প পরিমাণও অনেক এবং তা বিরাট ক্ষতিকর পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।)’
হযরত ইমাম জা‘ফর সাদেক (আ.) এরশাদ করেন : ‘তিনটি জিনিস ব্যতীত কোনো কিছু মুসলমানদেরকে উপযুক্ত করে তোলে না (বা সংশোধন করে না), তা হচ্ছে : দ্বীনের জ্ঞান, বিপদাপদে ধৈর্য ও জীবনের জন্য উত্তম পরিকল্পনা।’
হযরত ইমাম মূসা কাযেম্ (আ.) এরশাদ করেন : ‘তোমরা তোমাদের দিন-রাতকে চার ভাগে ভাগ করার চেষ্টা করো : এক ভাগ আল্লাহ্র কাছে মুনাজাতের জন্য, এক ভাগ যিন্দেগীর ব্যয় নির্বাহের পিছনে, এক ভাগ তোমার দোষত্রুটি দূরীকরণে অংশীদার স্বচ্ছ অন্তরের অধিকারী তোমার এমন ভাই ও বন্ধুদের সাথে ওঠা-বসার জন্য এবং এক ভাগ হালাল-এর ভোগ-আস্বাদনের জন্য।’
হযরত ইমাম মূসা কাযেম্ (আ.) এরশাদ করেন : ‘তিনটি জিনিস ছাড়া অন্য কিছু রোগব্যাধির নিরাময় করে না। তা হচ্ছে : দো‘আ, সাদাকাহ্ ও ঠা-া পানি।’
হযরত ইমাম রেযা (আ.) এরশাদ করেন : ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ্্ মদকে এ কারণে হারাম করেছেন যে, তা পানকারীদের বিচারবুদ্ধিকে ধ্বংস করে দেয়।’
(মাফাতীহুল্ হায়াত্ গ্রন্থ থেকে সংকলিত)
অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী