যেসব ঐতিহ্যবাহী স্থানের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা চায় ইরান
পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ১৫, ২০২৩

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধনের জন্য ইরানের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শীর্ষ চারটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের নাম প্রকাশ করেছেন দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং হস্তশিল্প উপমন্ত্রী আলি দারাবি।
মন্ত্রী ইউনেস্কো তালিকায় নিবন্ধনের জন্য দলিলগুচ্ছ তৈরি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদানগুলি অন্বেষণের জন্য চারজন বিশেষ সহকারীর নাম ঘোষণা করেন। শুক্রবার বার্তা সংস্থা ইসনা এই খবর জানিয়েছে৷
ইরানের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শীর্ষ চারটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হচ্ছে, ইরানি মসজিদ, পারস্য আসবাদ (উল্লম্ব বায়ুকল), মাসুলে সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্য এবং ফালাক-ওল-আফলাক দুর্গ।
অক্টোবরের শেষের দিকে ইরানের পর্যটন মন্ত্রী ইজ্জাতুল্লাহ জারঘামি বলেছিলেন, তার মন্ত্রণালয় দেশের ঐতিহাসিক মসজিদগুলির জন্য ইউনেস্কোর স্বীকৃতি চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং হস্তশিল্প মন্ত্রণালয় নির্বাচিত ঐতিহাসিক মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাতে একটি ডসিয়ার সংকলন করছি।’
মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের সাথে মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে ইরানি সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র উপাদান যা সংরক্ষণ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘ইরানি ও ইসলামি সংস্কৃতিতে মসজিদগুলি হচ্ছে বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আশীর্বাদপূর্ণ স্থান। এগুলিকে রক্ষা করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।’
ইরানের প্রাচীন বায়ুকল বা আসবাদ হচ্ছে শস্য পিষার জন্য একটি স্মার্ট কৌশল। এটি এমন একটি কৌশল যা প্রাচীন যুগে ব্যবহার করা হতো। ইরানের পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী লোকেদের প্রকৃতির সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং পরিবেশগত বাধাগুলিকে সুযোগে রূপান্তর করতে এটি ছিল একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।
কালে ফালাক-ওল-আফলাক হচ্ছে সাসানি যুগের (২২৪-৬৫১) একটি দুর্গ। আনুমানিক ৩০০/৪০০ মিটার চওড়া এটি। যার উচ্চতা আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০ মিটার। অপ্রত্যাশিত আট-টাওয়ারের দুর্গটি দেশী এবং বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য এই অঞ্চলের অন্যতম ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
মাসুলেহ ইরানের একটি মনোরম ঐতিহাসিক গ্রাম। এটি লেগো আকৃতির মাটির ঘরের জন্য বিখ্যাত। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ ইঙ্গিত বহন করে, মাসুলের কাছে পাহাড়ে মানুষের উপস্থিতির ইতিহাস ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকের (২০০০-১৫০০ খ্রিস্টপূর্ব)। সূত্র: তেহরান টাইমস