যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত
পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২২

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার এই দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের মহিমা হিসেবে এ দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পবিত্রতম দিবস। এজন্যই যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা এ দিনটি পালন করে।
আশুরা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানী পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের আহলেবাইতপ্রেমী মুসলমানরা। মিছিলটি বকশিবাজার, উর্দুরোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গোরই শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি দুই নম্বর সড়কের লেক পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলকে ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তাজিয়া মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশু অংশ নেয়। তাদের হাতে ছিল লাল-কালো আর সবুজ অক্ষর-খচিত নিশান। মিছিল থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে শোকের আবহ ফুটিয়ে তুলে।
এদিকে পুরান ঢাকার পাশাপাশি রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার , লালবাগ, ফরাশগঞ্জ, পল্টন ও মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়। মিছিলে আহলেবাইতপ্রেমী মানুষের ঢল নামে।মাতমকারীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন সেচ্ছাসেবকরা। তাদের পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা যায়।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
মর্মস্পর্শী এ ঘটনা স্মরণ করে প্রতি-হিজরি সনের ১০ মহররম বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শোকাবহ দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। পবিত্র আশুরা মানেই শোকের-মাতম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে তাদের হৃদয়-নিংড়ানো শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এবছরও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র আশুরার আবশ্যক সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালিত হয়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা বিশেষ প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও এবং স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।
এছাড়া পবিত্র আশুরা ১৪৪৪ হিজরি উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সোমবার বাদ যোহর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ’পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদ যোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।