যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত
পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩০, ২০২০

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবিবার সারাদেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হয়েছে। সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে আশুরার দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ব্যাপক পরিসরে জনসমাবেশের মাধ্যম মোহাররমের শোক মিছিল আয়োজন করা হয় নি। এ ব্যাপারে ক’দিন আগেই পুলিশের নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে।
রাজধানীতে রোববার সকাল থেকেই পুরান ঢাকার হোসেনি দালান এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয় ধর্ম অনুরাগী নারী পুরুষগন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একজন একজন করে পরীক্ষা করে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। ইমামবাড়ার ভেতরে সাজানো হয় তাজিয়া।
এ বছর মিছিল করার সুযোগ না থাকলেও কালো পোশাক পড়ে শোকের আচ্ছাদনে কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা ইমামবাড়ায় জড়ো হয়। হাতে আলাম নিয়ে তারা মিছিলের জন্য অপেক্ষাও করে। এরপর ইমামবাড়া চত্বরে আশুরার আনুষ্ঠানিকতা পালন করে।
হোসেনি দালানের ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত পরিসরে কিছু আয়োজন হয়েছে ইমামবাড়ার ভেতরে। রোববার সকাল ১০টায় সীমিত পরিসরে তাজিয়া মিছিল ইমামবাড়া চত্তর প্রদক্ষিণ করেছে। এ ছাড়া সেখানে মহররমের মজলিসও অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় পালিত হয় শোকের অনুষ্ঠান শামে গরিবা।
উল্লেখ্য, হিজরি ৬১ সনের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ১০ মহররম ইরাকের কুফা নগরের অদূরে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে সঙ্গী-সাথিসহ নির্মমভাবে শহীদ হন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন-এর আত্মত্যাগের এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এ শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়।
কারবালার শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশেষ মোনাজাত, দোয়া মাহফিল ও কোরানখানি।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি ছুটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে । বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।