বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

মোহসেন কারাআতির তাফসির বাংলায় পুস্তক আকারে প্রকাশের দাবি, রাখতে হবে প্রতিটি মসজিদে

পোস্ট হয়েছে: জুন ২৩, ২০২৩ 

news-image

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মুফাসসিরে কুরআন হুজ্জাতুল ইসলাম মোহসেন কারাআতির তাফসির বাংলায় অনুবাদ শেষে পুস্তক আকারে ছাপানো ও সিডিতে প্রকাশের দাবি করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনেরা।

আজ (শুক্রবার) ঢাকায় ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের আয়োজনে প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন ও ইরানের বিশিষ্ট আলেম মোহসেন কারাআতির আজীবন সাধনার স্বীকৃতি শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান।ক্বারি আলমগীর হোসেন মোল্লার সুললিত কন্ঠে কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার পর ‘জরীন হরফে লেখা রূপালি হরফে লেখা আসমানের কোরআন’ শিরোনামে নজরুল সঙ্গীতটি পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আবদুর রউফ।বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত শ্রোতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার শ্রোতারাও উপস্থিত ছিলেন বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে সরলভাবে যাপিত জীবনে বোঝার জন্য কুরআনের আলো অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বকে একেকটি ‘মূল্যবান সম্পদ’ বলে আখ্যা দেন তারা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বিস্তৃতমূলক কিংবা অন্যের তুলনামূলক উদাহরণ দিয়ে নয়, বরং সহজ সরল ও সাবলীলভাবে কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা যেভাবে তাফসিরে তুলে ধরেছেন মোহসেন কারাআতি, তা তাবৎ পৃথিবীর মানুষের জন্য কুরআন বোঝা ও জানার এক শান্তিময় পন্থা। আর এই আয়োজন বিগত ২৭ বছর ধরে ইরানের সম্প্রচার সংস্থা রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগ তার শ্রোতাদের জন্য অনুবাদ করে প্রচার করায় সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষই উপকৃত হয়েছেন। তাই বাংলাদেশের সকল মসজিদে মসজিদে মোহসেন কারাআতির তাফসিরের বাংলা অনুবাদ পৌছানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।অপর বিশেষ অতিথি আল মুস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রতিনিধি সাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ বলেন, মোহসেন কারাআতি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো ব্যয় করেছেন কুরআন আর আল্লাহর রাহে। যা সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অনন্য সম্পদ। যিনি এখনো তার সর্বোচ্চটা দিয়ে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছেন।

ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকার কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মদী তাঁর বক্তব্যে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণায় তুলে আনেন মোহসেন কারাআতির তাফসির। তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে সময় পার করা দিনগুলো সত্যিই অনেক জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের সহায়ক ছিল বলে জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানের কোণের ইউনিভার্সিটি অব রিলিজিয়ন্স এন্ড ডেনোমিনেশন্স-এর প্রফেসর ড. আলী জাদেহ মাহদি মুসাভি বলেন, জনাব মোহসেন কারাআতির তাফসির ইরানি মানুষের কাছে প্রবাদ বাক্য হিসেবে মনের গহীনে গেঁথে আছে। ইসলাম ও কুরআনের আলোকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানে যা খুবই কার্যকরী।

রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলা বিভাগের সাবেক পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম তাঁর সূচনা বক্তব্যে মোহসেন কারাআতির তাফসির বঙ্গানুবাদের স্মৃতিচারণা তুলে ধরেন।রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মোহসেন কারাআতির কাজ ও প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে মানবজাতির জন্য অশেষ কল্যানকর, যা আমরা সবাই তার ভালো কাজের স্বীকৃতির সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং কুরআনের তাফসির করে সফল হয়েছেন, তার এই তাফসির সারা বিশ্বের লাখো মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তাঁর এই মহান কর্ম সফল।রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক নাসির মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অপর সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুর রহমান। তিনি কুরআনের আলো অনুষ্ঠানের বিষয়ে শ্রোতাদের মতামত তুলে ধরেন। সেইসাথে মোহসেন কারাআতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ায় আইআরআইবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখছেন সাবেক কর্মী শাহ নেওয়াজ তাবিব, কবি আমিন আল আসাদ, লেখক ও ব্যাংক কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, ইরানের কোম থেকে আগত বাংলাদেশি আলেম আলী নওয়াজ খান প্রমুখ।

বেতার শ্রোতা সংগঠকদের মধ্য থেকে আলোচনায় অংশ নেন আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ’র সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী যুবরাজ, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব ঢাকা’র সভাপতি প্রকৌশলী মনজুরুল আলম রিপন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা হৃদয়, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব কিশোরগঞ্জ সভাপতি মো: শাহাদত হোসেন, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব নরসিংদীর সভাপতি হোসাইন মূসা।উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক, কবি ও ছড়াশিল্পী জামান সৈয়দী, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার সিনিয়র শ্রোতা মুখলেছুর রহমান, ময়মনসিংহর শুকুর মাহমুদ, ঢাকার রাশেদ তমাল, জামালপুরের জহিরুল ইসলাম, এম সবুজ মাহমুদ ও মাহমুদা পরী, ঢাকা সেনানিবাসের রওশন আরা লাবনী, ফরিদপুরের জামাল আহমেদ সুবর্ণ, রংপুরের আতাউর রহমান রঞ্জু প্রমুখ‌।

পার্সটুডে/