‘মুহাম্মদ (স)’ ছায়াছবি দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত
পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৫

ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদির নির্মিত মহানবীর জীবনআলেখ্যভিত্তিক ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (স)’ বিশ্বের দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। প্রদর্শনী শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ছবিটি ১০ এর মধ্যে ৮.৯ রেটিং অর্জন করেছে। চলচ্চিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো এ হিসাব দিয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ১১ শহরের ১৪৩টি প্রেক্ষাগ্রহে এই ছায়াছবির প্রথম পর্বের প্রদর্শন শুরু হয়। একই সময়ে কানাডার মন্ট্রিল চলচ্চিত্র উৎসবের আওতায় সেখানকার দু’টি সিনেমা হলে দেখানো হয়েছে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ছায়াছবি।
চলচ্চিত্র ও টিভি অনুষ্ঠান সংক্রান্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য উৎস ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজ বা আইএমডিবি’র হিসাব অনুযায়ী- বিশাল বাজেটের এ চলচ্চিত্রটি দর্শকরা ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন। আইএমডিবি’র ওয়েবসাইটে এ ছবি নিয়ে নিজেদের আনন্দ অনভূতি তুলে ধরতে দ্বিধা করেন নি পরিতৃপ্ত দর্শকরা।
এক দর্শক লিখেছেন, শেষ ছবি নির্মাণের আট বছর পর আবারও চমক দেখালেন মাজিদ মাজিদি। এবারে তাকে ছবি নির্মাণে সহায়তা করেছেন চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অনেকেই; ক্যামেরার পেছনে ছিলেন তারা। তাদের নিয়েই মহানবীর শিশুকালের ছবি তৈরি করেছেন মাজিদ মাজিদি।
ছবিটির এ দর্শক আরো লিখেছেন, এ পর্যন্ত যে সব ছবি দেখেছি তার মধ্যে সিনেমাটোগ্রাফির দিক থেকে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ। চলচ্চিত্রটিতে কম বয়সী নায়কের সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা যেন উড়ে বেড়িয়েছে। ছবিটি দেখতে যেয়ে গ্যালারিতে অনবদ্য চিত্রকলা দেখার অনুভূতি হয় বলে মন্তব্য করেন এ দর্শক।
কানাডার অপর এক দর্শক আইএমডিবি’তে লিখেছেন, ‘আর্ট ফিল্মের জগতের রাজাধিরাজ হলেন মাজিদ মাজিদি। ইরানের অনেক বড়মাপের এ সিনেমা প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। এ ছবি দর্শককে বিচিত্র রঙের লহরীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আর মহিমান্বিত সুর লহরী নির্মাণই মাজিদ মাজিদির বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তেরিও স্তোরারোর কুশলী তৎপরতা। তবে কোথাও কোথাও তার কাজ মাত্রা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে যে চিত্রকল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন তা নান্দনিকভাবেই শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছেন মাজিদ মাজিদি।’
এ ছবিটি নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিচালক মাজিদ মাজিদি বলেছেন, ইসলামের সঠিক ভাবমর্যাদা বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ (স)’। ইসলাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামের ভাবমর্যাদা পুণরুদ্ধার করাও ছবিটির উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
মন্ট্রিলে এ ছবির প্রিমিয়ারে তিনি বলেন, “দুভার্গ্যক্রমে এখন ইসলামের নামে উগ্র এবং সহিংস রূপ তুলে ধরা হচ্ছে অথচ এটি ইসলামেরই পরিচয় নয়। ইসলামের ছদ্মাবরণের আড়ালে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীরা যে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্কই নেই।”
সিরিয়া ও ইরাকে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসআইএল’র মানুষ হত্যা এবং সাংস্কৃতিক সম্পদ ধ্বংসের কথাই পরোক্ষভাবে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “শান্তি, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার ধর্ম ইসলাম। এ ছবিতে আমি তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ইসলাম সম্পর্কে যারা জানেন না, তাদের গবেষণার সূচনা করতে পারে এ ছবি।”
মহানবী (স) কে নিয়ে নির্মিত ট্রিলজি বা তিনখণ্ডের ছায়াছবির এই প্রথম খণ্ডে তাঁর মক্কার জীবনআলেখ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৭১ মিনিটের এ ছায়াছবি নির্মাণে সাত বছর সময় লেগেছে। ইরানের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ ছবি নির্মাণে তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। মোহাম্মদ মাহদি হায়দারিয়ান প্রযোজিত এ ছবির চিত্র ধারণ করা হয়েছে ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শহর বেলা-বেলা’তে।
ছবিটি নির্মাণে চলচ্চিত্র জগতের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা সহযোগিতা করেছেন। এতে কাজ করেছেন ইতালির তিনবারের অস্কারজয়ী সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তোরিও স্তোরারো, ইতালির ফিল্ম এডিটর রোবাতো পেরপিগানি, মার্কিন স্পেশাল এফেক্ট শিল্পী স্কট ই অ্যান্ডারসন, ইতালির মেকআপ আর্টিস্ট গিয়ানেত্তো ডি রোসি এবং ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার আল্লা রাখা রহমান (এ আর রহমান)।
সূত্র: রেডিও তেহরান, ৩১ আগস্ট, ২০১৫