বিশ্বনবীকে অবমাননার নিন্দা ও ফ্রান্সের যুবকদেরকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কিছু প্রশ্ন
পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৩১, ২০২০

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফরাসি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনারা আপনাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করুন কেন তিনি একজন আল্লাহর রাসূলকে অবমাননা করার পক্ষে অবস্থান নিলেন? এবং কেন এটাকে তিনি বাকস্বাধীনতা বলছেন?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ফরাসি যুবকদের উদ্দেশ্যে দেয়া বাণীতে প্রশ্ন করেছেন, পবিত্র ও ঐশী ব্যক্তিত্বদেরকে অপমান অপদস্থ করাই কি বাকস্বাধীনতা? তিনি আরো বলে, ফ্রান্সের যেসব মানুষ ম্যাক্রনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন ম্যাক্রন সেই সব মানুষকে তার এই বোকামিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত তাদেরকে কি অপমান করেননি? ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো প্রশ্ন করেন, কথাকথিত ইহুদি নিধনযজ্ঞের কল্পকাহিনী বা হলোকাস্টের বিরুদ্ধে কথা বলাকে কেন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়? যদি কেউ হলোকাস্টের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে কিংবা সন্দেহ করে অথবা অস্বীকার করে তাহলে কেন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়? অথচ বিশ্বনবীকে অবমাননার ঘটনাকে বাকস্বাধীনতা বলে দাবি করা হচ্ছে!
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন সম্প্রতি বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)কে অবমাননা করে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের বিষয়টিকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও ওই দেশটির সরকার এটাকে বাকস্বাধীনতা বলে দাবি করছে। এমনকি পাশ্চাত্যের আরো অনেক দেশও এটাকে বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করছে। ফ্রান্সসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলাম ভীতি ছড়ানোর মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে অথচ এ ধর্ম রহমত, শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা বয়ে এনেছে।
বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ(সা.) হচ্ছেন মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং এমনকি এ ধর্ম অন্যান্য ঐশী ধর্মের প্রতিও সম্মান দেখাতে বলে। সব ধর্মেই উগ্রপন্থাকে ঘৃণা ও নিন্দা জানানো হয়। তাই কারোরই উচিত নয় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উগ্রন্থীদেরকে হাতিয়ার বা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা। কিন্তু ফরাসি কর্মকর্তারা এ অপকর্মটিই করছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বাকস্বাধীনতার দোয়াই দিয়ে বিশ্বনবীকে অবমাননা করার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তার কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না এবং তার এ আচরণ সব ধর্মের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা, সহাবস্থান ও শান্তি জন্য সহায়ক নয়।
ইরাকের খ্রিস্টান পাদ্রী কার্ডিনাল মার লুইস রাফায়েল সাকু এক বিবৃতিতে বলেছেন, সব ধর্মের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঘৃণা ও সহিংসতার পরিবর্তে পারস্পরিক ভালবাসা, শান্তি, সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুসলমানদের ব্যাপারে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আচরণ কোনো ধর্মেরই নীতি আদর্শের মধ্যে পড়ে না এবং তিনি সারা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রেসিডেন্টের পদে বসে বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে ম্যাকরণের দ্বিমুখী নীতি সেদেশের জনগণের প্রতি অবমাননা যারা কিনা তাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। কারণ বাকস্বাধীনতার অর্থ অন্য ধর্মের প্রতি অবমাননা করা নয়।
বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট খুব সহজে বিশ্বনবীকে অবমাননার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন অথচ ওই দেশটিতেই হলোকাস্টের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যায় না এবং এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। পার্সটুডে/