বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

প্রতিরক্ষা ও সামরিকে যেভাবে অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে চলেছে ইরান

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৪ 

news-image
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখন বিশ্বের ১৩তম বৃহত্তম সামরিক শক্তিধর দেশ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতার দিক দিয়ে রয়েছে ১৪তম অবস্থানে। এছাড়া গর্বের সাথে ড্রোন উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম এবং সাবমেরিন উৎপাদনে দশম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে ২০০১ সাল থেকে নিরাপত্তাহীনতা এবং অশান্তির একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দেখা যায়। ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তাকফিরি সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মাধ্যমে এই প্রবণতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।
ইরান ১৯৯৮ সালে শাবাভিজ হেলিকপ্টার নির্মাণের মধ্য দিয়ে হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক দেশগুলোর কাতারে যোগ দেয়। বেল ২০৫ হেলিকপ্টারের আপগ্রেড মডেল ছিল এটি।
পরবর্তী পর্যায়ে শাহেদ ভারসনের তিনটি মডেলে তৈরি করা হয়, ‘শাহেদ ২৭৪’, ‘শাহেদ ২৭৮’ এবং ‘শাহেদ ২৮৫’।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাফল্য কেবল ব্যালিস্টিক এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ইরান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে দেশের আকাশকে সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে, ইরান বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে রয়েছে যারা দেশীয় সক্ষমতার উপর নির্ভর করে সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হচ্ছে, অভ্যন্তরীণভাবে নির্মিত বাভার-৩৭৩ সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি রুশ সিস্টেমের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আরও কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেজফুল, জুলফিকার, কদর, সেজ্জিল এবং জেলজাল।
ক্ষেপণাস্ত্র খাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বাস্তব অগ্রগতি শত্রুদের ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা সবসময় ক্ষেপণাস্ত্র খাতের দিকে মনোনিবেশ করেছে এবং এই অঞ্চলের পাশাপাশি পারমাণবিক খাতেও আলোচনায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে।
যাইহোক, ইসলামি বিপ্লবের নেতা বিশ্বাস করেন, ‘একজন বিবেকবান ব্যক্তি কখনই তার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পরিত্যাগ করবেন না। এভাবেই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে দিনে দিনে শক্তিশালী করতে হবে।’
ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলির মধ্যে একটি এমাদ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি অক্টোবর ২০১৬ সালে উন্মোচন করা হয়। উন্মোচনের সময় এই তরল-জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি স্টিয়ারিং দিয়ে সজ্জিত একটি নতুন ওয়ারহেডসহ প্রথম ইরানি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি ছিল।
নৌ-সামগ্রীর ক্ষেত্রে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এমন একটি দেশ যারা ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের জ্ঞান অর্জন করেছে। দেশটি জামারান, সাহান্দ এবং দেনা সহ বেশ কয়েকটি দেশীয় ডেস্ট্রয়ার উন্মোচন করেছে।
সেনা-নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দেওয়া এবং সহায়তা করতে সক্ষম।ইরান সাবমেরিনের দশম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ এবং সব ধরনের জাহাজ ও হোভারক্রাফ্ট ওভারহল করার দক্ষতা রয়েছে দেশটির।
ইরান বিভিন্ন ধরনের হালকা, আধা-ভারী এবং ভারী সরঞ্জাম ও অস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান বিশ্বের ৩২টি দেশে এই পণ্যগুলির কিছু অংশ রপ্তানি করে থাকে। ইসলামি বিপ্লবের আগে, এই পণ্যগুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের উৎপাদন সক্ষমতা একচেটিয়াভাবে বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশ ভোগ করত।
ইরানের ড্রোন শক্তি নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ড্রোন শক্তি এমন পরিমাণে বেড়েছে যে আজ শত্রুরা এই অঞ্চলের দিকে মনোনিবেশ করছে এবং এমনকি ইরানকে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ইরানের ড্রোন শক্তির বিকাশের ধারাবাহিকতা রোধ করার চেষ্টা করছে।
ইরান ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সফল হয়েছে।দেশটি আজ বিশ্বের ড্রোনের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে। .
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রতিরক্ষা অর্জন দেশের বিজ্ঞানীদের স্থানীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অর্জিত হয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট হুমকিকে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম স্থানীয়করণের সুযোগে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক সরঞ্জামের স্থানীয়করণ ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন। ফলে আজ বিশ্বের অস্ত্র রপ্তানিকারী দেশগুলির মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অন্যতম। সূত্র: মেহর নিউজ