বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

পর্দা নামলো আন্তর্জাতিক সুফি উৎসবের

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ 

news-image

‘সম্প্রীতির জন্য সঙ্গীত’ প্রতিপাদ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার শেষ হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব। আল্লামা রুমি সোসাইটি ও হাটখোলা ফাউন্ডেশনের যৌথ এ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নেয় বাংলাদেশ, ভারত, ইরান ও তুরস্কের শিল্পীরা। ১১৯ জন সুফি, লোকসঙ্গীত শিল্পী ও সাধক এ উৎসবে অংশ নেন। দেশের বাইরের অংশগ্রহণকারী দল ছিল পাঁচটি। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নন্দন মঞ্চে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রতিদিন মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টায় ও শেষ হয় রাত ১০টায়।


সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষ মিলে আমরা এখানে বসবাস করছি। এই সম্প্রীতির বলে দেয় জাতি হিসেবে আমরা অসাম্প্রদায়িক। লালন, হাসন, রাধা রমণেরা সারা জীবন গানে গানে এই সম্প্রীতির বাণীই প্রচার করেছেন। এই সম্প্রীতিই সুফিবাদের মূল কথা। এরকম উদার চিন্তা ও আদর্শকে আমরা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চাই।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেবরিম ওজতার্ক। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী ও আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আবদুল করিম।

প্রথম সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করে মাইজভা-ারী মরমি গোষ্ঠী, পারভেজ, শফি ম-ল, সামির কাওয়াল, রাফাত সুফি ও এসআই টুটুল। রাফাত গেয়ে শোনান ‘মুসাফির মন’, ‘ধন্য ধন্য মেরা সিলসিলা’, পারভেজ শোনান ‘বারে বারে আর আসা হবে না’, ‘কেন বান্ধ দালান ঘর’, হাজী শাহ মো. সমীর হোসেনের দল গেয়ে শোনায় ‘চল রে চল কাফেলা বেঁধে’, ‘আলী আলী মওলা আলী’সহ আরও কিছু গান। বাউল শফি ম-ল ‘মন মন্দিরে পূজা দেব, নামায পড়ব দিল কাবায়’, ও ‘ঘরে কে বা জাগে কে বা ঘুমায়’ গান গেয়ে শোনান।


দ্বিতীয় দিন বেলা ৩টায় সুফিবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী পুলক, শিরিন, রাজ্জাক, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দনা মজুমদার, সুফি বাউরা, তুর্কি সুফি দল, টুনটুন বাউল ও হানিফ বাউল। উৎসবের শেষ সন্ধ্যায় আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন শিল্পী হায়দার, হারুন, ইকবাল হায়দার, দীপংকর, সুনীল কারাকার, সিরাজ বাউল, ইরানি সুফি দল যেরইয়ব, ভারতীয় রোহিনি সিস্টার্স ও জলের গান।