দেশের একমাত্র কৃষি জাদুঘর
পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৯, ২০১৭

কৃষিই মানব সভ্যতার সূচনা ও বিবর্তনের ধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে সাথে কৃষি উপকরণ ও প্রক্রিয়া পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও উদ্ভাবনে পাল্টে গেছে কৃষির ঐতিহ্য ও কৃষ্টি। উন্নত যন্ত্রপাতি ও টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা আজ অনেকটাই উন্নতির পথে এগিয়েছে। প্রতিনিয়ত কৃষিতে যোগ হচ্ছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। এর ফলে প্রাচীন কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণগুলোর ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তাই কৃষি সভ্যতার সূচনা ও বিবর্তনের এই ইতিহাস-ঐতিহ্যখচিত কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তিসমূহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া ওইসব কৃষি ঐতিহ্য ও উপকরণ সংরক্ষণের সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে উঠে দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক জাদুঘর। ২০০২ সালের ১০মার্চ দেশের প্রথম এই কৃষিভিত্তিক জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০০৭ সালের ৩০ জুন বাকৃবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসাইন মিঞা এর উদ্বোধন করেন।
মিউজিয়ামটির আয়তন ৬৩৫০ বর্গফুট এবং এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।জাদুঘরটি পরিদর্শনে গেলে খুব সহজেই চোখে পড়ে, এখানে আমাদের কৃষি ঐতিহ্যকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেগুলোর সাথে মিলেমিশে আছে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা এবং সংস্কৃতির পরিচয়। জাদুঘরে সংরক্ষিত কৃষি উপকরণের মধ্যে বাঁশ ও বেতের তৈরি টুকরি, ওচা, মাথলা, বাঁকসহ ঝুড়ি, টুরং, কুরুম, তেরা, খালই, গরুর ঠোয়া, বিভিন্ন ধরনের হুক্কা, বাঁশের তেরি চালুন, কুলা, ডুলি, লাঙল, জোয়াল, মই, কোদাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও রয়েছে দা, নিড়ানি, কাস্তে, কাঠের তৈরি ঢেঁকি, পলো, চেং, বাইর, উড়ি, সানকি, বিজয়পুরের চীনা মাটি, এঁটেল মাটি, দোআঁশ মাটিসহ বিভিন্ন ধরনের মাটি, জীবাণু সারসহ বিভিন্ন ধরনের সার। রয়েছে বাকৃবি, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান, পাট, সরিষা, ডাল, ছোলা, টমেটো, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য বীজ। বিলুপ্ত এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, অনুষদ ভিত্তিক বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, সয়েল টেস্টিং কিট, ইনসেক্ট কালেক্টিং বক্স, বিবর্তনের ধারায় যান্ত্রিক কৃষি কাজের মডেল, পাহাড়ি চাষাবাদ পদ্ধতিসহ কৃষি কাজের বিভিন্ন মডেল। আরো রয়েছে অজগর সাপ, জাতি সাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণির কঙ্কাল, মাটির তৈরি বাঘসহ বিলুপ্তপ্রায় অনেক কৃষি উপকরণ। জাদুঘরটিতে গেলে দেখা মিলবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ব্যবহৃত প্রথম মাইক্রো কম্পিউটারটি। যেটি সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য আনা হয়। এই কম্পিউটারের সঙ্গে ব্যবহৃত প্রিন্টারটিও খুব যত্নে এখানে রাখা আছে। আছে বিভিন্ন মডেলের কিছু পুরনো ক্যালকুলেটরও।
আমাদের কৃষির ঐতিহ্যকে জানার ইচ্ছে থাকলে যেকেউ ঘুরে যেতে পারেন এই কৃষি মিউজিয়ামটিতে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।