বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

তেহরানের নিকটে নির্মিত হচ্ছে বিশাল নৃবিজ্ঞান পার্ক

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২০ 

news-image

ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল একটি নৃবিজ্ঞান পার্ক। এই পার্কটিতে দেশটিতে বসবাসরত বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, প্রথা, রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। বর্তমানে নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তেহরানের পশ্চিম অংশ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কারাজ শহরে নৃবিজ্ঞান পার্কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

রোববার প্রাদেশিক পর্যটন প্রধান ফেরেইদুন মোহাম্মাদি বলেন, একটি নৃবিজ্ঞান জাদুঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এটি নির্মাণ হলে আলবোর্জ প্রদেশের নৃতাত্ত্বিক পার্কের কাজ সম্পন্ন হবে। পার্কজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ইরানের অনেক ঐতিহাসিক স্থান, গ্রাম ও উপজাতীয় বিভিন্ন ভূখণ্ডের প্রতিরূপ। খবর সিএইচটিএন এর।

নৃবিজ্ঞান পার্কটিতে আরও যেসব ঐতিহাসিক স্থানের প্রতিরূপ থাকবে সেগুলো হলো- আইয়ানেহ গ্রাম, তুর্কমেনের পল্লি ভূদৃশ্য, আরদাবিল প্রদেশের জাতিগত ভূমি, ফারস প্রদেশের নৃতাত্ত্বিক স্থানসমূহ, উত্তরাঞ্চলীয় ইরানের গ্রামাঞ্চল। এছাড়া এখানে মসজিদ, জলাশয়, বাতাসের টাওয়ার, বাজার এবং পান্থনিবাসের মতো বহু প্রাচীন স্থাপত্যের প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে।

দেশি-বিদেশি পর্যটক উভয়ের কাছে উপজাতীয় পর্যটন উপভোগ করার মতো একটি পর্যটন। এতে নতুন নতুন স্থান, প্রথা-ঐতিহ্য, রন্ধনশালা, বিশ্বাস ও জীবনযাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। এটাকে এথনো-পর্যটন, এথনিক পর্যটন বা উপজাতি পর্যটন বলেও অভিহিত করা হয়। একটি যাযাবার বা পল্লি পরিবারের সাথে কিছু সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে জানা যায় এই পর্যটনের মাধ্যমে।

বিশ্বের অনেক পর্যটকই আছেন যাদের পল্লি অঞ্চলের কঠোর-পরিশ্রমী মানুষদের জীবনযাপন পদ্ধতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার শখ রয়েছে। তারা কয়েক দিন সময় ব্যয় করে দুধ দোহন, দই তৈরি, মাখন তৈরি, তেল প্রস্তুত, কার্পেট বোনা ইত্যাদি পল্লি কার্যক্রম উপভোগ করেন। অনেক ইরানি ও বিদেশি পর্যটক যাযাবারদের কালো তাঁবুতে ঘুমাতে পছন্দ করেন।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ইরানে তুর্ক, আরব, কুর্দ, বালুচ, বখতিয়ারি, লুরসসহ বহু আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাশাপাশি এখানে আরও বসবাস রয়েছে আরমেনীয়, আসিরীয়, ইহুদি ও অন্যান্য অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর। সূত্র: তেহরান টাইমস