ঢাবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ইরানি কালচারাল কাউন্সিলরকে বিদায় সংবর্ধনা
পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ১৪, ২০১৮

ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ মুসা হোসেইনীর বাংলাদেশে দায়িত্বপালন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের হাফিজ প্রাঙ্গনে গত ১৩ আগষ্ট এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.আবুল কালাম সরকার। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের প্রবীন শিক্ষক ড.কুলসুম আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে জনাব মুসা হোসেইনীকে বিভাগের পক্ষ থেকে স্মারক ক্রেষ্ট প্রদান করেন ড. আবুল কালাম সরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড.এ কে এম সাইফুল ইসলাম খান, প্রফেসর ড.তারেক সিরাজী, প্রফেসর ড. আব্দুস সবুর খান ও সহকারী অধ্যাপক মুমিত আল রশিদ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব আহছানুল হাদী।
প্রফেসর ড. কুলসুম আবুল বাশার তার বক্তৃতায় বলেন, সাইয়্যেদ মুসা হোসেইনী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তার কার্যক্রম ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইরানি ভিজিটিং প্রফেসরদের আগমন ও অবদানের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর কে এম সাইফুল ইসলাম খান কয়েকটি কবিতার উদ্ধৃতি থেকে বলেন, ‘গাঞ্জ’ একটি ফারসি শব্দ এবং আমরা ফারসি সাহিত্যের চর্চার মধ্য দিয়ে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার গাঞ্জে মিলিত হয়েছি। এই উপমহাদেশের বিজ্ঞজনেরা একসময় ফারসির রত্নভাণ্ডারে বিচরণ করেছেন- বর্তমানে এই সাহিত্যচর্চার মধ্যদিয়ে আমরা আবারও সমৃদ্ধ হব।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. আব্দুস সবুর খান বলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ও ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পর্ক একই পরিবারের মত। তিনি জনাব মুসা হোসেইনীর সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি বিভাগে ইরানের সহায়তায় ভাষা শিক্ষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা, বিভাগের ১জন শিক্ষক ও ২জন ছাত্রের উচ্চশিক্ষার্থে ইরানে অবস্থান, ইরানে বিভিন্ন সেমিনারে শিক্ষকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, ফারসি বিভাগকে সাথে নিয়ে ভিন্ন মাত্রায় নওরোয উৎসব উদযাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
প্রফেসর ড. তারেক সিরাজী তার বক্তৃতায় বলেন, জনাব মুসা হোসেইনীর কর্মসূচীগুলোর একটি স্থায়ী প্রভাব রয়েছে ও ছাত্র-শিক্ষকরা তা থেকে উপকৃত হবে।
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুমিত আল রশিদ তার বক্তৃতায় নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈচিত্রময় অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে ফারসিচর্চাকে ব্যপকতর করতে ও তাদের কর্মকাণ্ডকে বিভাগ ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সর্বত্র সম্প্রসারিত করার আহবান জানান।
প্রফেসর ড. আবুল কালাম সরকার তার বক্তৃতায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে আবদান রাখার জন্য সাইয়্যেদ মুসা হোসেইনীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ছাত্র-শিক্ষকরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের সাফল্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত হচ্ছে।