ঢাকায় বিশ্বখ্যাত ইরানি কবি ফেরদৌসির স্মরণে আলোচনা
পোস্ট হয়েছে: মে ১৮, ২০১৭

ফারসি ভাষার মর্যাদা সমুন্নত দিবস ও বিশ্বখ্যাত ইরানি কবি হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসির স্মরণে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবের উদ্বোধন ও আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান বলেন, মহাকবি ফেরদৌসি এমন একজন কবি যিনি ফারসি ভাষাকে জীবন্ত করেছেন শাহনামার মাধ্যমে। কোন কবি কর্তৃক এত বড় রচনা বিশ্বে দ্বিতীয়টি আর নেই। এই অমর গ্রন্থ ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এতেই বোঝা যায় ফেরদৌসির এ কর্মের মূল্য কত বেশি!
ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, মহাকবি ফেরদৌসি একজন মহাপ-িত ব্যক্তি ছিলেন। ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে তিনি অগাধ পা-িত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর রচনার মাধ্যমে মানুষের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন কিংবদন্তি ও সমসাময়িক বিষয়কে অবলম্বন করেছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ দিয়েছেন।
জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী বলেন, ইরান তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানি, দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, সুফি, সাধকসহ অসংখ্যা গুণিজনকে মানব সমাজে উপহার দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইরান মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বিশ্বের দেশগুলোর মাঝে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
তিনি আরো বলেন, আজ ফারসি ভাষার সুরক্ষা ও এই ভাষার উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন হওয়ার দিন। যাঁরা ইরানি সাহিত্যের ইতিহাসের সাথে পরিচিত তাঁরা খুব ভালো ভাবেই জানেন যে, ফারসি ভাষার সংরক্ষক হিসেবে যাঁর নাম উচ্চারণ না করলে এই ভাষাকে সমৃদ্ধ করার মূল কারিগরকেই অস্বীকার করা হবে তিনি হলেন হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসি। হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে ইরানি জাতি ফেরদৌসির মতো একজন ভাষার অলঙ্কারিক বা মহাকবির সান্নিধ্য পেয়েছিল। তার কয়েক শতাব্দী পর হাফিজ, সাদি, আত্তার, খাইয়্যাম, ও রুমির মতো আরো অনেক কবি-সাহিত্যিকের আগমন ফারসি ভাষা ও সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে অবস্থিত হাফিজ প্রাঙ্গনে ফারসি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান ও ঢাকাস্থ ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী।
অনুষ্ঠানে একাডেমিক সেশনে ইরানের জাতীয় কবি ফেরদৌসির জীবন ও সাহিত্যকর্ম, বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা ক্ষেত্রে অগ্রগতি শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ, ড. মো. কামাল উদ্দীন, ড. মো. আবুল হাশেম ও বিশিষ্ট গবেষক আব্দুল কুদ্দুস বাদশা।
একাডেমিক সেশনে সভাপতিম-লীর আসন অলংকৃত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রবীণতম শিক্ষক ড. কুলসুম আবুল বাশার মজুমদার, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম খান ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রবীন্দ্র গবেষক জনাব আনিসুর রহমান স্বপন।