ঢাকায় ইরানি নওরোজ উৎসব (ভিডিও )
পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২৬, ২০১৬

আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ঢাকায় পালিত হলো ইরানি নওরোজ উৎসব।২৫ শে মার্চ শুক্রবার বিএমএ মিলনায়তনে ঢাকাস্থ ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এতে প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন,
প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বের একটি ঐতিহ্য নওরোজকে ইরানিরা দেশিয় সংস্কৃতি হিসেবে পালন করে আসছে। আর আমরাও হাজার বছর ধরে আমাদের নববর্ষ পালন করে আসছি। তিনি দেশি সংস্কৃতির সাথে ধর্মের বিরোধ নেই বলেও মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী ইরান-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলা ভাষায় ৫ হাজার ফারসি শব্দের ব্যবহারই প্রমাণ করে যে পারস্যের আমাদের ঘনিষ্টতা কত গভীর।
অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত অভিনয় শিল্পী ও চিত্র পরিচালক সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ইসলাম আগমনের পর ভারতীয় উপমহাদেশে যে বিরাট পরিবর্তন হয় তা আরবদের মাধ্যমে নয় বরং ইরানের ধর্ম প্রচারকদের মাধ্যমে হয়েছে। পারস্যের সাথে আমাদের কেবল ধর্মীয় সম্পর্ক নয়, সাংস্কৃতিক ও বংশগত সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। প্রকৃতিকে অবলম্বন করে নওরোজ বা নববর্ষ পালন আমাদেরকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে।
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, নওরোজ মানেই বসন্তের শুরু। আর বসন্ত মানেই ইরানিদের নতুন বছরের যাত্রা। শীত ঋতুর সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বসন্ত যেমন পুরনো সব জরাজীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতিকে নতুন করে সাজায়, পুষ্প পল্লবে আচ্ছাদিত করে চারদিক তেমনি ইরানিরাও নওরোজে প্রকৃতির নতুন রূপের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। বাড়িঘর, অঙ্গিনা, অলি-গলি, রাস্তা সবকিছু ঝেড়ে ঝকঝকে করার পাশাপাশি এগুলোর সৌন্দর্য বর্ধনের মধ্য দিয়ে সমাজকে নতুন করে আলিঙ্গন করে। এদিন ইরানিরা পরিবার-পরিজন ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন, একে অপরকে উপহার দেন ও দরিদ্রদের সাহায্য করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ মূসা হোসেইনী বলেন, ইরানি জাতির সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব নওরোজ। প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব ও আত্মার সম্পর্ক তৈরি করা, মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, মানুষের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবর্তন সাধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন, হিংসা-বিদ্বেষ দূরীকরণ ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো ও দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়াসহ মানবসমাজের আরো অনেক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানানোই ইরানি সংস্কৃতিতে নওরোজের প্রধান বার্তা।
তিনি আরো বলেন, নওরোজ বলতেই ইরানীদের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ধরে নেয়া হলেও কোন কোন রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে, খ্রিস্টপূর্ব ৩ হাজার বছরেরও আগে থেকে এই নওরোজ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই নওরোজ উৎসব কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়, আফগানিস্তান, তুরস্ক, মধ্য এশিয়া ও উপমহাদেশের দেশগুলাতেও তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি ও আচার অনুষ্ঠান অনুযায়ী এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।
এমনকি যে দেশগুলোতে নওরোজ উৎসব পালিত হয়ে থাকে সেই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ২০১০ সাল থেকে বন্ধুত্ব ও শান্তির বার্তা নিয়ে প্রতি বছর এক এক দেশে আন্তর্জাতিকভাবে নওরোজ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। আর এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান ও কিরগিজিস্তান। জাতিসংঘও বিশ্বে শান্তি ও সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে ২০১০ সালে ফারসি নতুন বছরকে আন্তর্জাতিক নওরোজ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।