শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্ম জয়ন্তী আজ

পোস্ট হয়েছে: মে ২৫, ২০১৭ 

news-image

দুর্গম পথের দুঃসাহসী যাত্রী তিনি, বিদ্রোহী সত্তার স্রষ্টা। মানুষের হৃদয়ে জাগিয়েছেন মুক্তির আকাঙক্ষা। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বেছে নিয়েছেন বিদ্রোহের পথ। তবে তার দ্রোহ আর সমস্ত সৃষ্টি উৎসারিত হয়েছে প্রেমিক সত্তা থেকেই। আজ এগারোই জৈষ্ঠ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী। দ্রোহ, প্রেম আর সাম্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার সাথে জড়িয়ে আছেন কাজী নজরুল। মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতার সংগ্রামে গড়েন বিদ্রোহের দুর্গ। সব মত-পথ এবং ধর্মের বিভেদ ভুলে করে গেছেন মুক্তির সংগ্রাম। জাতীয় কবির মর্যাদায় সিক্ত এ কবি সাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন বাংলার অবহেলিত মানুষের জীবন থেকে। প্রেম আর দ্রোহের মেলবন্ধনে অনন্য কাজী নজরুল ইসলাম। সৃষ্টির সুখ দিয়ে তিনি উল্লাস করেছেন আর মানুষকে ভাসিয়েছেন আনন্দসাগরে। বর্ধমানের চুরুলিয়ায় ১৩০৬ বঙ্গাব্দে দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মেছিলেন নজরুল। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই শুরু হয় তার সাহিত্য আর গান। তবে অভাব-অনটন ছেলেবেলায়ই নজরুলকে ঠেলে দিয়েছিল জীবীকার পথে, ময়মসিংহের দরিরামপুরে এসে দারিদ্রের সাথে যুদ্ধ করেই এগিয়েছেন; বঞ্চিতদের জন্য অগ্নিবীণা বাজিয়ে গেয়েছেন মানবতার গান। যোগ দিয়েছিলেন লেটো গানের দলে। এখান থেকে গড়ে ওঠা সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে উদ্ধুদ্ধ করে আসম্প্রদায়িক চেতনায়; পরবর্তীকালে বিদ্রোহে। বৈপ্লবিক রোমাঞ্চে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ দেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। যুদ্ধ শেষে ছাড়েন সেনাবাহিনী। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনেও যোগ দেন নজরুল, যার বিস্ফোরণ ১৯২১ সালের বিদ্রোহ। নবযুগ পত্রিকার হাত ধরে শুরু হয় সাহিত্য ও সাংবাদিকতার চর্চা। সুন্দরের প্রতি সহজাত কবি নজরুল আজীবন প্রেমে আগ্রহী ছিলেন। তাইতো সুন্দরের প্রশংসায় সৃষ্টি হয়েছে তার কবিতা ও গান। শুধু প্রেম বা ভালোবাস নয়, নজরুল হয়ে উঠেছিলেন সাম্যবাদী, শুনিয়েছেন সাম্যের গান। জাতীয় কবির জীবন দর্শন সঠিকভাবে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার আহবান নজরুল প্রেমীদের। ১৯৪২ সালে এ সাম্যবাদী লেখক হয়ে যান বাকরুদ্ধ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে বাংলাদেশে এনে মর্যাদা দেন জাতীয় কবির। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে চিরনিদ্রায় শায়িত হন মানব প্রেমের এই কবি।