শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এনসিয়েখাজআলীর চিঠি

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ 

news-image

ইসরাইলী সেনাদের হামলায় অধিকৃত ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের উপর যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে সে প্রসঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মহিলা ও পারিবার বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট এনসিয়েখাজআলি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের  কাছে যে চিঠি দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

আল্লাহর নামে

মহামান্য আন্তোনিও গুতেরেস,

জাতিসংঘ মহাসচিব

শুভেচ্ছা।

এটি জাতিসংঘের কাছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মহিলা ও পারিবারবিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্সির একটি জরুরি বিবৃতি ও বার্তা যার লক্ষ্যহলো এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যে, বহু বছর ধরে অধিকৃত ফিলিস্তিনে নারী ও শিশুদের উপর যে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে তা এখন চরমে পৌঁছে গেছে এবং সেখানে একটি ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

যখন গোটা বিশ্ব পরিবারের উষ্ণ আলিঙ্গনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে তেমনি একসময়ে এইদিন গুলোতে ফিলিস্তিনে একটি অসম যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা গাজার অসংখ্য পরিবারকে বিপর্যস্ত করেতুলেছে।

অনেক নারী তার পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়েছে এবং অনেক শিশু তাদের পিতামাতার প্রাণহীন দেহকে প্রত্যক্ষ করেছে! এসব ঘটনা কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেককে নাড়া দেয় না?

জাতিসংঘের কি এমন হয়েছে যে, এক সময়ে নারীর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে ছুটে যায় এবং নারীদের সম্পর্কে একটি অপ্রমাণিত প্রতিবেদনের কারণে উদ্ভট সিদ্ধান্ত নেয়, আবার অন্য সময়ে নারী ও শিশুদেরছিন্নভিন্ন লাশের বাস্তব চিত্রের প্রতি চোখ বন্ধকরেথাকে?

মহামান্য মি. গুতেরেস,

নিপীড়িত গাজাশহরে নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বর্তমানে হাজার হাজার গর্ভবতী মহিলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এই শহরের মহিলাদের মধ্যেএমন শত শত মহিলা রয়েছেন যারা সম্প্রতি বাচ্চা প্রসব করেছেন;তাই মা ও শিশু উভয়ের জন্য নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন, কিন্তুএক্ষেত্রেযৎসামান্য সুযোগ-সুবিধাই অবশিষ্ট রয়েছে।

তাছাড়া দুর্ভাগ্যবশত,পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, অথচ এসব ঘাটতির তাৎক্ষণিক শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। বর্তমানে, এমনকি গাজার হাসপাতালগুলোও বোমা হামলা থেকে মুক্ত নয়এবং হাসপাতালের উপর বর্বর হামলার কারণে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

প্রিয়মি. গুতেরেস

গাজার নির্যাতিত জনগণের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বাস্তব ও রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় কি আসেনি? আন্তর্জাতিক বৈধতাহীন একটি দখলদারজান্তার হাতে অরক্ষিত নারী ও তাদের শিশুদের হত্যা এবং পরিবারের উষ্ণ আলিঙ্গনকেবাধাগ্রস্তকরাকেবর্ণবাদ ও গণহত্যার দৃষ্টান্ত ছাড়াআর কীভাবে ব্যাখ্যাকরাযেতেপারে? আমরা এমন লোকদের কথা বলছি যাদের কাছে একমাত্র গাজা উপত্যকা অবশিষ্ট রয়েছে–যেটিখাঁচাসদৃশ এমন একটি জায়গা যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দখলদার শাসকদের দ্বারা গুরুতর বিধিনিষেধও নির্দয় গণহত্যার শিকারহয়েছে।আর এসময়েযখন তারা এই খাঁচাটি ভেঙে ফেলতে এবংএইদখলদারদেরনিপীড়নেরপ্রতিবাদজানাতেচাচ্ছেতখনতাদেরকেনির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে।

মহামান্য মি. গুতেরেস

ইসরায়েলের দখলদার শাসক এখনও তার দুষ্ট চক্রান্ত বন্ধ করেনি এবং এখনও তাদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এই স্বল্পসংখ্যক লোককেও এই সীমিত অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। যেসব নারী ও শিশুকে ন্যূনতম মানবীয় অধিকার থেকে বঞ্চিতকরা হয়েছেতাদেরকেরক্ষার জন্যজাতিসংঘের মহাসচিব হিসাবে আপনার কিপদক্ষেপনেওয়ার সময় আসেনি?

প্রিয় মি. গুতেরেস

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আপনার ভিন্ন আচরণের জন্য অপেক্ষা করছে। নির্যাতিত ও সন্তানহারা মায়েদের হাহাকার, যেসবনিষ্পাপশিশুতাদেরমায়েদেরকে হারিয়েছে এবং গাজার শিশুদের আতঙ্কভরা আর্তনাদ কি এখনো জাতিসংঘের সদস্যদের কানে পৌঁছায়নি?

প্রিয় মি. গুতেরেস

যদিএইসংস্থারপক্ষথেকেগাজারজনগণেরদুর্ভোগ ও দুর্দশারযন্ত্রণাআন্তর্জাতিকসম্প্রদায়েরকাছেপৌঁছানোনাহয়তাহলেকিভাবেজাতিসংঘসকলজাতিরবলেবিবেচিতহতেপারে?যেমনটিইরানেরমহানকবি সাদি বলেছেন: আদমের সন্তানরা একই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, তারা একটি নির্যাস থেকে সৃষ্ট, সময়ের বিপর্যয় যখন একটি অঙ্গকে পীড়িত করে তখন অন্য অঙ্গগুলোশান্তিতে থাকতে পারে না।

শুভেচ্ছান্তে,

এনসিয়েখাজালি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মহিলা ও পারিবার বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট