জাতিসংঘে মিনা দুর্ঘটনা ও সন্ত্রাস ইস্যুতে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ২২, ২০১৫

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সামনে দেয়া ভাষণে মক্কার মিনায় সম্প্রতি শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এবং সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট রুহানি তার ভাষণের শুরুতে মিনায় শত শত হাজির মৃত্যুর ঘটনার জন্য সৌদি শাসকদের অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বলেছেন, তাদের কারণেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবকে এ ঘটনার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দায় দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিনার ঘটনা এতটাই মর্মান্তিক ছিল যে, সৌদি সরকার এ সংক্রান্ত খবরাখবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং তারা এ ঘটনার জন্য ভিন্ন কারণকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি। এ অবস্থায় এ ঘটনার দায় দায়িত্ব স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বেঁচে যাওয়াদের প্রশান্তির জন্য খুবই ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ মাত্র। মিনা ট্রাজেডির জন্য সৌদি কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনাই যে দায়ী এ ব্যাপারে কারো মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও তারা এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার ও ক্ষমা না চেয়ে বরং এর দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মক্কার মিনায় বিপর্যয়কর ঘটনার যে সব ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে তাতে এ ঘটনায় সৌদি কর্মকর্তাদের অযোগ্যতা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সৌদি সরকার এ ঘটনার জন্য অন্যদেরকে দায়ী করার যে চেষ্টা চালিয়েছে তাও কোনো কাজে আসেনি। মিনা ট্রাজেডির কারণে এবারের পবিত্র ঈদুল আযহা ও ঈদে গাদিরে খোমের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সৌদি সরকারের উচিৎ এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সহযোগিতা করা। এর অন্যথায় মুসলিম বিশ্বে সৌদি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি মিনা ট্রাজেডি ছাড়াও সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা যদি ইরান ও আফগানিস্তানে হামলা না চালাতো এবং ফিলিস্তিন দখলকারী ইসরাইলের প্রতি অন্ধ সমর্থন না দিত তাহলে বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের উদ্ভব ঘটতো না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর আইএসআইএলসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে পাশ্চাত্যের নীতির মিল রয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা এ অঞ্চলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের দখলদারিত্বের ফসল। বর্তমানে আইএসআইএল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও তার মিত্রদের নীতি বাস্তবায়ন করছে। এ কারণে আইএসআইএলকে বলা হয় আমেরিকার অবৈধ সন্তান। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমেরিকা দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। সন্ত্রাসবাদকে তারা ভালো ও খারাপ এ দুই ভাগে ভাগ করে মধ্যপ্রাচ্যে উগ্রবাদ ও সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে। বাস্তবতাকে উল্টো করে দেখানো এবং ইরানসহ আরো কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আরোপ করার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে আমেরিকা ও তার মিত্রদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মন থেকে কখনোই মুছে যাবে না।
পাশ্চাত্য ইরাক ও সিরিয়ায় গণহত্যা চালানোর জন্য এসব সন্ত্রাসীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বর্তমানে এসব সন্ত্রাসী মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, একই কারণে ইউরোপে শরণার্থী সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় শরণার্থী সমস্যা সমাধান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন সব মুসলিম দেশের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সমন্বিত পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে ইরান এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে। জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্টও সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে সম্মিলিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
সূত্র: আইআরআইবি, তারিখ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫