বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

গোরগানের মহাপ্রাচীর: মধ্যইউরোপ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘতম প্রাচীন বেড়া

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ৫, ২০১৯ 

news-image

‘গ্রেট ওয়াল অব গোরগান’ বা গোরগানের মহাপ্রাচীর। ইরানের উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে যার অবস্থান। প্রাচীন স্থাপনাটির দৈর্ঘ্য ২০০ কিলোমিটার। খ্রিস্টপূর্ব ৪২০ থেকে ৫৩০ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রভাবশালী পারস্য সম্রাজ্যের উত্তর সীমান্তে এটি নির্মাণ করা হয়। তখন অঞ্চলটি ছিল পারস্যের সাসানি সম্রাজ্যের অধীন। সেসময় ধারাবাহিক কয়েকটি যুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে প্রাচীরটি ব্যবহার করা হয়। এটি প্রথম ব্যবহার করা হয় হেফথলাইটস বা হোয়াইট হুনসদের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে ব্যবহার হয় তুর্কিদের বিরুদ্ধে।

বিশাল আয়তনের স্মৃতিস্তম্ভটির বেশিরভাগ এখনও মাটির নিচে ঢাকা রয়েছে। যদিও এপর্যন্ত কিছু অংশ মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছে এবং আগের রূপ ও গৌরবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় ঐতিহাসিক স্থাপনাটির নাম তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এলক্ষ্যে দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প মন্ত্রণালয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। 

প্রাচীরটি জুড়ে রয়েছে মোট ৩৮টি দুর্গ। এটি মধ্যইউরোপ ও চীনের মধ্যকার দুর্গসজ্জিত দীর্ঘ প্রাচীরের প্রাচীন বেড়া। ইউনেসকোর তথ্যমতে, প্রাচীরটির দৈর্ঘ্য একত্রে হাদরিয়ানের প্রাচীর ও অ্যান্তোনাইনের প্রাচীরের চেয়েও বড়।

গোরগানের মহাপ্রাচীরযার পূর্ব নাম ছিল এস্কান্দার প্রাচীর। গোলেস্তান প্রদেশের গোরগানের নিকটে অবস্থিত কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণপূর্ব অংশ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে প্রাচীরটি নির্মাণ করা হয়। গোরগানের আয়তন ১৬১৫ বর্গ কিলোমিটার। তুর্কমেনিস্তান সীমান্তের কাছেই অবস্থিত এই শহরটি। আগেকার দিনে গোরগান শহরের পাঁচটি প্রবেশদ্বার ছিল। শহর ঘিরে ছিল অনেক টাওয়ার। শহরের উত্তর দিকটায় ছিল এই প্রতিরক্ষা প্রাচীর।

ইউনেসকোর তথ্যমতে, গোরগান প্রাচীর যেমন ভৌতগত দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। তেমনি এটি উন্নত প্রযুক্তির দিক দিয়ে আরও উল্লেখযোগ্য। তৎকালীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে এটি তৈরি করা হয়। নির্মাণ কাজে ব্যবহারে ইট তৈরির জন্য সুড়ঙ্গ খননের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। গোরগান নীদ থেকে চ্যানেলের মাধ্যমে এসব সুড়ঙ্গে পানি আনা হতো। এর মধ্যে একটি ক্যানালের নাম সাদ-ই গারকাজ, যার দৈর্ঘ্য ৭শ মিটার, উচ্চতা ২০ মিটার। তবে এটি মূলত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞগণ প্রাচীর পথে যেসব টিলা ছিল সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পর্যালোচনা করে বলেছেন, ওই প্রাচীরের সুরক্ষা এবং শহরের সুরক্ষার লক্ষ্যে এখানে অনেক কেল্লাও গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রাচীরটির দৈর্ঘ্য ছিল ২০০ কিলোমিটার। ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘ প্রাচীর এটি। আর বিশ্বের ঐতিহাসিক প্রাচীরগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে এই প্রাচীর। বিশ্বের বাকি দুটি নামকরা প্রাচীর হলো চীনের মহাপ্রাচীর এবং জার্মান প্রাচীর। ঐতিহাসিক অনেক লেখায় এই প্রাচীরটিকে এস্কান্দার বাঁধ, আনুশিরভান বাঁধ, লাল সাপ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।

সূত্র: তেহরান টাইমস।