শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে ইরানি কালচারাল কাউন্সেলরের বৈঠক

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ২৯, ২০১৯ 

news-image

বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ হাসান সেহাত গত সমবার ২৮ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আলোচনা ও মতবিনময করেছেন। বৈঠকে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ হাসান সেহাতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আপনার উপস্থিতিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এমন এক কবির নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যিনি তার সাহিত্যকর্মে অসংখ্য ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এমনকি তিনি মহাকবি হাফিজ ও ওমর খইয়্যামের মত ইরানের বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের অনেক রুবাইয়্যাতও সরাসরি অনুবাদ করেছেন। কবির সাহিত্যকর্মে ফারসি ভাষার ব্যাবহার নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমও চলছে। এই ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সহযোগিতা পেলে আমাদের এই কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ হাসান বলেন, ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক অভিন্ন সংস্কৃতি রয়েছে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম এই দেশদুটির মধ্যকার সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। ফারসি ভাষা এ অঞ্চলে দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা যেসব শব্দ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি যেমন, বাদাম, বাজার, দপ্তর, আদালত, কাজী, কাগজ, নামাজ, রোজা এসবই ফারসি শব্দ। অর্থাৎ এই দেশ দুটির মধ্যকার ভাষা ও সংস্কৃতি এমনভাবে একে অপরের সাথে মিশে আছে যে, এ থেকে পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। আমরা আমাদের এই সুসম্পর্ককে আরো গভীর থেকে গভীরতর করতে চাই। এদেশের জাতীয় কবি ফারসি সাহিত্য নিয়ে অনেক কাজ করেছেন।

নজরুলের এই সাহিত্যকর্ম নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চলছে তাতে আমাদেরও সহযোগিতা থাকবে। বিশেষকরে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়েও যদি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ চালু করা হয় তাহলে আমরা ইরান থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ ধরনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কবি নজরুল যেহেতু ফারসি সাহিত্য নিয়ে অনেক কাজ করেছেন সুতরাং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এমনকি ফারসি ভাষা কোর্স চালু হওয়াটাই প্রাসঙ্গিক। তিনি এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। বৈঠকে ইরানের মহাকবি ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাব উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ড. মো. হুমায়ুন কবির, ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল স্টাডিজ ইন্সটিটিউটের উপ পরিচালক রাশেদুল আনাম ও ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চলচ্চিত্র ও জনসংযোগ বিভাগের উপ পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।