ইয়াযদ শহর: ইরানের মরুভূমির মুক্তা
পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৬

ইরানের কেন্দ্রীয় পর্বতমালার পাশে অবস্থিত ইয়াযদ প্রদেশের প্রধান শহরের নাম ইয়াযদ। মরু আঞ্চলিক শহরগুলোর মধ্যে এটি ইরানের অন্যতম প্রাচীন, বৃহত্তম ও সুন্দর শহর হিসেবে স্বীকৃত।ইয়াযদ মানে হলো পাক পবিত্র। ইয়াযদ শহরটির বৈশিষ্ট্য তার নাম থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। ইয়াযদ শহরের স্থাপনাগুলোর ইতিহাস নিয়ে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এখানকার প্রথম স্থাপনাটি গড়ে উঠেছে আলেকজান্ডারের হাতে। বলা হয়ে থাকে আলেকজান্ডার এই শহরটি তৈরি করেছিলেন কারাগার হিসেবে। যারা শাস্তিপ্রাপ্ত তাদের জন্য এবং নির্বাসনে দেয়ার জন্য এই শহরটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এ কারণে আলেকজান্ডারের কারাগার নামেও এই শহরের প্রসিদ্ধি আছে।
বলা হয়ে থাকে, আলেকজান্ডার যখন ইরানের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তেহরানের কাছাকাছি ‘রেই’নামক বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক শহরের বেশ কজন ব্যক্তিত্ব তার বিরোধিতা করেছিলেন। আলেকজান্ডার সেইসব মহান ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ইয়াযদ অতিক্রম করার সময় সেখানকার একটি কূপে তাঁদেরকে বন্দি করে রেখেছিলেন। ওই স্থানটিকে গ্রিক ভাষায় জিন্দান বা কারাগার বলে।
আলেকজান্ডার যখন ইয়াযদ থেকে বেরিয়ে যান তখন ওই কারাবন্দিরাই রক্ষীদের সাহায্য নিয়ে শহরটিকে আবাদ করার উদ্যোগ নেয়। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ইয়াজদের গোড়াপত্তন হয়েছিল সাসানি শাসক প্রথম ইয়াযদগার্দ্ এর হাতে। তার নামের সাথে মিল রেখেই শহরটির নাম রাখা হয়েছে ইয়াযদ।
হিজরি পঞ্চম শতক থেকে এই শহরটির বিকাশ ঘটে। আতাবাকিরাই এই শহরের উন্নয়নে অবদান রেখেছিল। ইয়াযদেও দেখার আছে অনেক কিছু। বিশ্ব পর্যটকরা এই শহরে প্রায়ই বেড়াতে আসে ইয়াযদের মসজিদে কাবির, ফাহরাজ জামে মসজিদ, সাইয়্যেদ রোকনুদ্দিনের সমাধি, দৌলতাবাদ বাগিচা, আমিরে চাখমখ মসজিদ, অগ্নিমন্দির, টাওয়ার ইত্যাদি দেখার জন্য।