রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামি স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন ইসফাহানের ইমাম মসজিদ

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০২১ 

news-image

ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম ইমাম মসজিদের সংস্কার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দশ বছরের বেশি সময় ধরে এই সংস্কার কার্যক্রম চলছে।ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ইরানের ইসফাহান শহরে অবস্থিত। সাফাভিদ রাজবংশের শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এটি অতীতে শাহ মসজিদ, নয়া সুলতানি মসজিদ এবং জামে আব্বাসি মসজিদ নামেও পরিচিত ছিল। ইমাম মসজিদে হিজরি একাদশ শতাব্দীর ইসলামি স্থাপনার নির্মাণশৈলি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।  ইউনেসকো স্বীকৃত স্থানটির পরিচালক ফারিবা খাতাবাখশ জানান, ইমাম মসজিদের গম্বুজের পুনরুদ্ধার কাজ শেষ হবে আগামী মাসের মধ্যে। বর্তমানে ১৫ ও ১৬তম অংশ পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।অনিন্দ্য সুন্দর বিশাল এই মসজিদটির হিজরি ১০১৯ সাল মোতাবেক ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ইরানি শাসক শাহ আব্বাস সাফাভির নির্দেশে ইসফাহানের ইউনেসকো স্বীকৃত ঐতিহাসিক নাকশে জাহান চত্বরের দক্ষিণ প্রান্তে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মসজিদটিতে স্থাপিত একটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, শাহ আব্বাস নিজের ব্যক্তিগত হালাল সম্পদ থেকে দেয়া অর্থ দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করেন এবং এর সওয়াব বখশিশ করেন নিজের পিতা শাহ তাহমাসেব-এর আত্মার ওপর।ইসলামের প্রাথমিক যুগের  ইমাম মসজিদে প্রবেশের মূল দরজা নাকশে জাহান চত্বরের দিকে স্থাপিত। কিন্তু কিবলার সঙ্গে সমন্বয় করে এই দরজা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে, এটি দিয়ে প্রবেশ করার পর মুসল্লিরা বুঝতেই  পারেন না যে, তারা ৪৫ ডিগ্রি কোণ ঘুরে মসজিদে প্রবেশ করেছেন। ইমাম মসজিদের এই মূল ফটকের দুই পাশে শোভা পেয়েছে সুউচ্চ দু’টি মিনার। এই ফটকের বহির্ভাগে সুদৃশ্য ডিজাইনে বসানো হয়েছে চমৎকার কারুকাজসমৃদ্ধ টাইলস। এগুলোর উপরে বেশ কয়েকটি রং ব্যবহার করে আঁকা হয়েছে গাছা-পালা ও লতাপাতাসহ নানা প্রাকৃতিক দৃশ্য।মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম কোণে রয়েছে দু’টি ছাদযুক্ত বারান্দা। পূর্ব প্রান্তের বারান্দাটি বড় হলেও এখানকার দেয়ালে তেমন কোনো কারুকাজ চোখে পড়ে না। তবে পশ্চিম প্রান্তের বারান্দাটি চমৎকার সাত রঙের টাইলস বসিয়ে একটি দর্শনীয় পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই বারান্দার মেহরাবটি ইসফাহানের অন্য সব মসজিদের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ইসফাহানের ইমাম মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এটির মূল গম্বুজের নিচে যেকোনো শব্দের প্রতিধ্বনি।  ৪০০ বছর আগে এই গম্বুজটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে, এটির ঠিক নিচের যেকোনো স্থানে দাঁড়িয়ে খুব আস্তে শব্দ করলেও তার প্রতিধ্বনি অনেক জোরে শোনা যায়।  সূত্র: তেহরান টাইমস।