রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৭তম বার্ষিকী উদ্যাপিত

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৬ 

news-image

ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিএমএ মিলনায়তনে ‘ইরানের ইসলামী বিপ্লবের লক্ষ্য ও অর্জন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমাদের সময় ডট কমের নির্বাহী সম্পাদক জনাব রাশিদুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক জনাব মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী।

IMG_0189জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইমাম খোমেইনীর বিপ্লব কেবল ইরানের জনগণকেই মুক্তি দেয়নি বরং বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রেযা শাহ পাহলভীর শাসনামলে ইরানের স্বতন্ত্র কোন মর্যাদা ছিল না, কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের পরে ইরান আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন জাতি হিসেবে বিশ্ব সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইমাম খোমেইনী ইরানের জনগণকে প্রবলভাবে জাগিয়ে তোলেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণা নিয়েই বর্তমান ইরান সামনে দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী বলেন, ইরানের বিপ্লবের প্রধান উপাদানগুলো ছিল মর্যাদা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই বিপ্লব বিজয় অর্জন করে। আর এ বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্রের পরিবর্তে একটি ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবে।

জনাব মূসা হোসেইনী বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু স্মরণীয় ঘটনা বা মুহূর্ত রয়েছে যা ঐ জাতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৯ সালে সংঘটিত ইরানের ইসলামী বিপ্লব এমনই এক ঘটনা যা সমসাময়িক বিশ্বের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের একটি মাইল ফলক হয়ে আছে। এই বিপ্লব কেবল ইরানের জনগণের কাছেই উচ্চা মর্যাদায় সমাসীন হয়নি, ইতিবাসবিদদের দৃষ্টিতেও সমাজের উপর এর প্রভাব বিস্তারের দিক থেকে এটি গত একশ’ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে।

p2তিনি আরো বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান গত তিন দশকেরও বেশি সময়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ও চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। জনসেবা বিশেষ করে দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অবস্থার উন্নতি সাধন, শিল্প-সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিশেষ করে পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন, ইসলামী বিপ্লবের অগ্রগতির অন্যতম উদাহরণ। এছাড়া মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের দিক থেকে এই বিপ্লব বিশ্বের বিদ্যমান শাসন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, ইরানের চলচ্চিত্র বিশ্বসমাজে তার স্বকীয়তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ইরানী চলচ্চিত্র পরিচালকদের মেধা ও মননের বিষয়টি আমাদেরকে অভিভূত করে। তাঁরা বাস্তবতাকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রকৃত দৃশ্যগুলোকে ধারণ করে, যেমন বাজারে, রাস্তা-ঘাটে তারা ক্যামেরা গোপন করে ভিডিও ধারণ করে যাতে কোন ধরনের কৃত্রিমতা এখানে প্রবেশ না করে। অন্যদিকে হলিউডে কৃত্রিমভাবে বাস্তবতা তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালকদের নিকট থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

জনাব রাশিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের বিপ্লবই দেশের মুক্তি আনলেও দেশের মানুষের মুক্তি আনতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। ইরানের ইসলামী বিপ্লব দেশের মুক্তির আনার পাশাপাশি মানুষের মুক্তিও এনেছে। ইমাম খোমেইনী তাঁর অনুসারীদের কাছে ইসলামী জাগরণের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারণা দিতে সক্ষম হন যা তাদের মধ্যে বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল। ইরানের এই মহান নেতা দেখিয়ে গেছেন সত্যের পথে যেসব বাধাবিপত্তি আসে তার সাথে লড়াই করে কিভাবে টিকে থাকতে হয়। পারমাণবিক ইস্যুতে একটি ফয়সালার পথ রচনায় ইরানের কূটনীতিকরা দরকষাকষি করে যে সফলতার পথ দেখিয়েছেন নিঃসন্দেহে তা ইসলামী বিপ্লবের শিক্ষা থেকেই অনুসারিত।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ৭-১০ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত ইরানী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী। উল্লেখ্য, ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে গত ৭-১০ ফেব্রুয়ারি ৪ দিনে মোট ৮টি ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রসমূহ হলো বাংলায় ডাবিংকৃত দাবীরিস্তা’ন (শিক্ষাঙ্গন), গোলহা’য়ে দাউদী (যে ফুল ফোটেনি), গারীবে (অচেনা) ও পারান্দে কুচেকে খোশবাখ্তী (একটি সুখের ছোট পাখি) এবং ইংরেজি সাবটাইটেলসহ খাস্তে নাব’শীদ (ডোন্ট বি টায়ার্ড), ইয়ে হাব্বে কান্দ (এ কিউব অব সুগার), তা‘মে গীলা’স (টেস্ট অব চেরী) ও রাহে অ-বি আবরিশাম (দি অ্যাকুয়াটিক সিল্ক রোড)।