ইরানের ইসলামি বিপ্লব – ‘অনিবার্য’ হবার আগে যা ছিল ‘অসম্ভব’*
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮
ইরানের ইসলামি বিপ্লব – ‘অনিবার্য’ হবার আগে যা ছিল ‘অসম্ভব’*
ব্যারি কে. গ্রোস্ম্যান**
বস্তুত মানবজাতির ইতিহাসে অন্য কোনো বিপ্লবই এতো বেশি ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে নি, বা অন্য কথায়, সুনির্দিষ্ট সর্বজনীন নৈতিক মূল্যবোধসমূহের প্রতি এমন সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার লাভ করে নি।
এখন থেকে ঊনচল্লিশ বছর আগে হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর আন্তরিক নিষ্ঠা ও পবিত্র অন্তর্দৃষ্টি এমন কতগুলো ধারাবাহিক অপ্রতিরোধ্য ঘটনার দরজা উন্মোচন করে দেয় যা ইরানের ইসলামি বিপ্লব হিসেবে সুপরিচিত। এ ঘটনাবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল খোদাদ্রোহী শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং সেই সাথে প্রকৃত ইসলামের নৈতিকতা ও বিধি-বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে ও বর্তমান জাতি-রাষ্ট্রের এ যুগে একমাত্র যে ধরনের ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যৌক্তিকভাবে সম্ভব তথা বেলায়াতে ফকীহ্ (মুজতাহিদের শাসন) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামি বিপ্লব। আর এর পর পরই হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর অভিভাবকত্ব ও পথনির্দেশ এমন একটি সুদৃঢ় ও অবিচল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে যার ওপরে আজকের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিষ্ঠিত হয়।
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর হিজরত ও অতঃপর বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সংঘটিত মূল ইসলামি বিপ্লবের পরে দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী কালে আর কখনোই প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণ কর্তৃক কুফ্রের প্রভাব প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের তুলনায় অধিকতর উত্তম দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। শুধু তা-ই নয়, নিঃসন্দেহে ইতিহাসে এমন আর কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না যে, কোনো গণবিপ্লব- তা যে কোনো আদর্শিক লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়ে থাকুক না কেন- এমন ব্যাপক ও সর্বাত্মক জনসমর্থন লাভ করে। স্বৈরাচারী পাহ্লাভী সরকার কর্তৃক হাজার হাজার মানুষকে শহীদ করা ও অনবরত উস্কানি সৃষ্টি করা সত্ত্বেও এ বিপ্লব প্রধানত শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হয় এবং তা এতটাই শান্তিপূর্ণ ছিল যে, বিংশ শতাব্দীতে অন্য কোথাও কোনো আদর্শভিত্তিক বিপ্লব এতটা শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হবার দৃষ্টান্ত মেলে না।
বস্তুত মানবজাতির ইতিহাসে অন্য কোনো বিপ্লবই এত ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে নি বা কতগুলো সুনির্দিষ্ট সর্বজনীন নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল না। এমনকি এ বিপ্লøবের সমালোচকরাও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের মোট জনসংখ্যার অন্তত শতকরা দশ ভাগ ইরানের ইসলামি বিপ্লবে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, অথচ, বলা হয়ে থাকে যে, ১৭৭৬ সালের আমেরিকান বিপ্লবে, ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবে ও ১৯১৮ সালে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের জনগণের শতকরা এক ভাগের সামান্য বেশি সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
সমালোচকগণ আরো স্বীকারোক্তি করেছেন যে, ‘… বিপ্লবের চেতনাকে ইরানের মধ্যে সীমিত করে রাখার যেমন কোনো উপায় ছিল না, তেমনি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে বিরাজমান আগ্রহকে নিষ্প্রভ বা স্তিমিত করে দেয়াও সম্ভবপর ছিল না।’
সংক্ষেপে বলা যেতে পারে যে, এ বিপ্লব হচ্ছে এমন একটি সুউচ্চ মিনার তুল্য অর্জন যা গোটা বিশ্বের মুসলমানদের দ্বারা উদ্যাপিত হওয়া উচিত।
অবশ্য সব সময়ই এমন লোকদের অস্তিত্ব থাকবেই যারা গোষ্ঠীগত ভাবাবেগ, বৈদেশিকতা সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বা পার্থিব স্বার্থপরতা দ্বারা চালিত হয়ে থাকে এবং এ কারণে তারা বিপ্লবের সাফল্য অর্জন ও তার হেফাযতের লক্ষ্যে ব্যবহৃত ‘পন্থাসমূহ’ প্রসঙ্গে বিতর্কিত বিস্তারিত ঐতিহাসিক বিবরণের সমালোচনার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে, অথচ একই সময় তারা এ বিপ্লবের মূল বিষয়বস্তুর অনস্বীকার্য বাস্তবতা এবং এ বিপ্লবের বিরুদ্ধে ইরান ও ইসলামের দুশমনদের অনবরত হুমকির বিষয়টিকে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
সুতরাং এটা কী করে সম্ভব যে, আমরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল বিষয়বস্তু বা মূল বক্তব্য এবং যে পরিস্থিতি এ বিপ্লবকে অনিবার্য করে তুলেছিল সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ দৃঢ়তা সহকারে কিছু বলব, অথচ সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হবে না?
আলোচনার শুরুতেই আমরা যখন যে প্রেক্ষাপট সংঘটিত হবার পূর্বে ‘অসম্ভব’ হিসেবে পরিগণিত এ বিপ্লবকে ‘অনিবার্য’ করে তুলেছিল তার প্রতি দৃষ্টি দেই তখন দেখতে পাই যে, ইতিহাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত মোহাম্মাদ রেযা পাহ্লাভীর একনায়কতান্ত্রিক শাসনকে-যা ইরানকে কুফ্রী শক্তির হাতে তুলে দেয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ছিল-সকলের দৃষ্টির সামনে নগ্ন করে তুলে ধরেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকাধীন শাহের লুটেরা সরকার যে কী পরিমাণে পৈশাচিক নিপীড়ক, দুর্নীতিপরায়ণ ও বলদর্পী ছিল সে ব্যাপারে যারা সংশয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরকে শুধু এই একটি বিষয় নিয়ে ভেবে দেখতে বলব যে, ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন কার্টার প্রশাসন, ন্যাটো, এমনকি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের মুখপাত্র ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) পর্যন্ত প্রকাশ্যে শাহের সরকারের সমালোচনা করত। হয়তোবা এ কারণেই বিপ্লবের গড়ে ওঠার পর্যায়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ বিপ্লবকে গলা টিপে মারার জন্য শাহের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার প্রতি সমর্থন দানে মার্কিন প্রশাসন অস্বীকৃতি জানায়- যা কার্যত ছিল এ বিপ্লবের সপক্ষে ঐশী সুকৌশলেরই প্রতিফলন।
অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ছিল তার এ অগভীর ও বলদর্পীমূলক ধারণার ওপরে ভিত্তিশীল। কারণ, মার্কিন প্রশাসন মনে করেছিল যে, শাহের সরকারকে সামরিক হস্তক্ষেপ তথা ব্যাপক রক্তপাত থেকে বিরত রাখার ফলে বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেলেও পরে কোনো না কোনোভাবে আয়াতুল্লাহ্ খোমেইনীকে পাশে সরিয়ে দেয়া যাবে এবং একজন আধ্যূাত্মিক নেতা হিসেবে তাঁকে গান্ধীর ন্যায় মার্কিন ধাঁচের গণতন্ত্রকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য করা যাবে, আর স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি ‘গণতান্ত্রিক’ ও আদর্শিকভাবে ‘যথাযথ’ সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেকনোক্র্যট্ ও আদর্শিকভাবে ‘যথাযথ’ উপকরণাদি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
কিন্তু ইরানের ইসলামি বিপ্লব অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইরানের বুক থেকে স্বৈরাচারী স্বঘোষিত ‘বাদশাহ্দের বাদশাহ্’ (শাহানশাহ্)-এর দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের সকল বাড়াবাড়ির ও ইসলামের প্রতি সরকারি দুশমনীর অবসান ঘটায় এবং ইসলামি বিধি-বিধানকে পাশ্চাত্য ধাঁচের বাহ্যিক প্রদর্শনী ও কৃত্রিমতার স্থলাভিষিক্ত করে। বিশেষ করে শাহের গড়ে তোলা গোপন পুলিশ বাহিনী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সাভাক্-কে সাথে সাথেই বিলুপ্ত করা হয় এবং সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর ইরানি জাতির নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি পার্থিব দিক থেকেও অবিশ্বাস্য উন্নতি সাধিত হয়।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণার বিপরীতে হযরত ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইরানের ইসলামি বিপ্লব স্বীয় ইসলামি ও স্বাধীন বৈশিষ্ট্য সহকারে টিকে যাওয়ায় স্বয়ং আমেরিকার পক্ষ থেকে এবং তার নির্দেশ অনুযায়ী তার আটলান্টিক জোটের মিত্র দেশগুলোর ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলস্থ তার তাঁবেদার দেশগুলোর পক্ষ হতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ভিতর ও বাইরে থেকে বার বার আক্রমণ চালানো হয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি), স্বাক্ষরতার হার, শিক্ষা ও এ ধরনের অন্যান্য সূচক- সোজা কথায়, স্রেফ পার্থিব পরিভাষায় সাধারণত যেসব মানদ-দণ্ডে সাফল্য বিচার করা হয়, সেসব মানদ-দণ্ডে পরিমাপ করলেও ইরানের ইসলামি বিপ্লব দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে খুবই সফল হয়েছে।
ইরানে বিপ্লবের পর থেকে বিশেষ করে নারীদের মধ্যে সাক্ষরতা ও শিক্ষার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইসলামি বিপ্লবোত্তর ইরানে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার বিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা দেশে স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির হার বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৭৯ সালে ২৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী ইরানিদের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্তকারীদের হার ছিল মাত্র শতকরা ৩৫ ভাগ, আর ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার ২১ বছর পর ২০০০ সাল নাগাদ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্তকারী ২৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী ইরানিদের সংখ্যা শতকরা ৮৫ ভাগে উন্নীত হয়।
১৯৭৯ সালে ২৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী ইরানিদের মধ্যে মাত্র শতকরা ১০ ভাগ উচ্চতর ডিগ্রির অধিকারী ছিল, আর ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার ২১ বছর পর ২০০০ সালে এ হার দাঁড়ায় শতকরা ৩০ ভাগে। অন্যদিকে ১৯৭৯ সালে যেখানে ৬ বছরের বেশি বয়সী ইরানিদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ছিল শতকরা ৫২ ভাগ, সেখানে ২০০০ সালে এ হার দাঁড়ায় শতকরা ৮৫ ভাগে। (বর্তমানে প্রায় শতভাগ।)
শুধু তা-ই নয়, ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হবার পর থেকে ইসলামি ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় সব সময়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আটলান্টিক বিশ্বের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও ইরানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে- যার ফলে ৪৩ হাজার কোটি ডলারের ইরানি অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির অধিকারী হয়েছে এবং অনুকূল বাণিজ্যিক ভারসাম্য সহ মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। আর অধিকতর বহুমুখীকৃত ইরানি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি হারের ব্যাপারে যে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আগাম ভবিষ্যদ্বাণীকৃত হারের তুলনায় অনেক বেশি।
ক্রয় ক্ষমতা সংক্রান্ত সমতা বিধানের লক্ষ্যে সমন্বয় সাধন, এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ক্যালক্যুলেশন ব্যবহার করা সত্ত্বেও ইরানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৩০ হাজার কোটি ডলারে- যা কানাডা-র জিডিপি (এক লক্ষ ৬০ হাজার কোটি ডলার)-এর সামান্য নিচে। এ ক্ষেত্রে স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, কানাডা হচ্ছে বিশ্বের সাতটি বড় দেশ (জি-৭)-এর অন্যতম অর্থাৎ আইএমএফ যে সাতটি দেশকে উন্নত অর্থনীতি ও সর্বাধিক জাতীয় সম্পদের অধিকারী সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে গণ্য করে সে দেশগুলোর অন্যতম এবং ইরানের অবস্থান তার খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
যদিও ইরানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৭৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশিতে দাঁড়িয়েছে তথাপি, ক্রয় ক্ষমতার সাথে সমন্বয়কৃত সমতার ভিত্তিতে ইরানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) যেখানে বিপ্লবোত্তর দ্বিতীয় বছরে অর্থাৎ ১৯৮০ সালে ছিল মাথাপিছু ৪ হাজার ২৬৭ ডলার সেখানে ২০১৬ সালে তা শতকরা ৩০০ ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে মাথাপিছু ১৭ হাজার ১১৪ ডলারে দাঁড়ায়।
যে অবস্থায় ইরানের এ অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে সে সম্পর্কে স্মর্তব্য যে, বিপ্লবের পর ইরানের অর্থনীতিতে বার বার অস্থিরতার সৃষ্টি হয়- যে দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা ছিল কেবলই ইরানের বৈদেশিক শত্রুদের অপচেষ্টার প্রতিফলন; ইরানের শত্রুরা অনবরত দেশটিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এসব অপচেষ্টার মধ্যে ছিল দেশটির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে, বিশেষত উৎপাদন রোধক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সরাসরি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া এবং সেই সাথে বিশেষ করে সৌদি আরবের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তেল রপ্তানিকারক দেশসমূহের সংস্থা (ওপেক)-এর পলিসি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তেলের মূল্যের ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি।
আমেরিকার নেতৃত্বাধীন আটলান্টিক বিশ্ব কর্তৃক সত্য, ন্যায় ও মুক্তির পতাকাবাহী ইসলামি বিপ্লবের আলো নিভিয়ে দিয়ে এবং ঘড়ির কাঁটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে ইরানকে সেই ‘অন্ধকার যুগে’-অমুসলিম দেশসমূহ এখনো যে যুগে পড়ে আছে-ফিরিয়ে নেয়ার বিরতিহীন অপচেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামি প্রশাসনের পরিচালনাধীনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বস্তুগত দিক থেকে যে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে তা একদম সাদা চেখেই খুব সহজেই ধরা পড়ে।
তবে আজকের দিনে এবং প্রতিটি বড় ধরনের ঘটনার প্রতিটি বার্ষিকী উদ্যাপন কালে প্রকৃতই যে সাফল্যটির জন্য সর্বাধিক আনন্দ উদ্যাপন করা উচিত সেটি হচ্ছে তা-ই যা ইরানকে কুফ্রের জোয়াল থেকে মুক্তি দিয়েছে, আর তা নিহিত রয়েছে কুফ্রের প্রভাবকে ও ইরানের স্বার্থ জলাঞ্জলী দেয়ার বিনিময়ে পার্থিব সুবিধা হাসিলের লোলুপ প্রস্তাবকে নির্দ্বিধায প্রত্যাখ্যানের চেতনা, লক্ষ্য ও নৈতিক বৈধতা এবং সেই সাথে হযরত ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আত্মপ্রকাশের জন্য উম্মাহ্কে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে যথার্থ ইসলামি সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা।
বস্তুত ইসলামের বৈপ্লবিক সামাজিক সুবিচারকে কিছুতেই প্রতারিত বিশ্ববাসীর সামনে জাতিসংঘের ‘সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিল্ অব্ রাইট্স্’, ফ্রান্সের ‘মানুষের অধিকারের ঘোষণা’ ও ‘নাগরিক অধিকারের ঘোষণা’ অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর ‘মৌলিক অধিকারের চার্টার’ প্রভৃতি কর্তৃক ঝুলিয়ে দেয়া অন্তঃসারশূন্য ও বাকসর্বস্ব মিথ্যা প্রতিশ্রুতিসমূহের সাথে তুলনা করা চলে না। এসবের বিপরীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী সামাজিক সুবিচার হচ্ছে চেতনা ও কথা উভয় দিক থেকেই কোরআন, হাদিস ও সুন্নায় বিধৃত ইসলামের বিশ্বজনীন বাণী অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনার একটি প্রকৃত অংশ।
আটলান্টিক বিশ্বের ‘সুবিচার’ যেখানে জনগণের নিকট কিছুই জিজ্ঞেস করে না, বরং তাদেরকে বিশ্বজোড়া ও গালভরা হাওয়াই প্রতিশ্রুতি প্রদান করে মাত্র, সেখানে ইসলামি সুবিচার যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে পরিগণিত তেমনি সে দায়িত্ব ও কর্তব্য পুরোপুরি পালন করাও অপরিহার্য। অন্যদিকে ইসলামি সুবিচার যেখানে এই দুনিয়ায় যা কিছু প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান করে এবং সেই সাথে পরজগতের জন্যও প্রতিশ্রুতি প্রদান করে- যা অবশ্যই পালিত হবে, সেখানে আটলান্টিক বিশ্বের প্রতিশ্রুত ‘সুবিচার’ হচ্ছে এমন কিছু যারা তা ‘ক্রয় করা’র ক্ষমতা ও সামর্থ্য রাখে না তা তাদের আওতার বাইরে থেকে যায় এবং এর ফলে এ ‘সুবিচার’ তাদেরকে কিছুই প্রদান করে না। তেমনি আটলান্টিক বিশ্বের ‘সুবিচার’ যেখানে কেবল ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি রাখে, সেখানে ইসলামি সুবিচার সামষ্টিক স্বার্থের সাথে ব্যক্তিক অধিকার ও কর্তব্যের ভারসাম্য বিধান করে।
ইসলামি সুবিচার ও আটলান্টিক বিশ্ব্রে ‘সুবিচার’-এর মধ্যে এই যে অলঙ্ঘনীয় ব্যবধান – এর প্রতি দৃষ্টি রাখলে আর এতে বিস্ময়ের কোনো কারণ পাওয়া যাবে না যে, যেসব লোক ‘মানবাধিকার’ সম্পর্কে আটলান্টিক বিশ্বের অনবরত পরিবর্তনশীল সংবেদনশীলতাকে গ্রহণ করে নেয়ার কথা ঘোষণা করেন তাঁরা কেবল একটি অপসৃয়মাণ রাজনৈতিক ফ্যাশন হিসেবেই তা গ্রহণ করেছেন, নচেৎ তাঁরা এটা অনুধাবনে পুরোপুরি অক্ষম যে, সুবিচারের বিষয়টি ইসলামি শারীয়ায় যেভাবে বিবৃত হয়েছে অর্থাৎ একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতি পূরণ করে দেয়া ও অপরাধীকে শাস্তি প্রদান- তা থেকে ব্যক্তিদেরকে বঞ্চিত করা মানে যৌক্তিক দৃষ্টিতেই নিকৃষ্টতম ধরনের সুস্পষ্ট ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’।
অনৈসলামিক শাসনাধীন দেশসমূহে অনবরত প্রচার করা হয় যে, ইরানের ইসলামি শাসনের বৈপ্লবিক ব্যবস্থা ‘মানবাধিকার’ লঙ্ঘনের কারণ হয়েছে। কিন্তু তাদের এ অভিযোগ যে নিছক রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও সত্য বিকৃতকরণ মাত্র-যার পিছনে কোনোরূপ সাক্ষ্য-প্রমাণ বা বাস্তব দৃষ্টান্তের ভিত্তি নেই-সে কথা বাদ দিলেও এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ‘অধিকার’ বলতে এমন কিছুকে বুঝিয়ে থাকেন যা ইসলামের অধিকারের ধারণা থেকে ভিন্ন এবং তাঁরা তাঁদের ধারণাকৃত সে ‘অধিকার’কে উন্নততর হিসেবে গণ্য করে থাকেন, যদিও তা পুরোপুরিভাবে কেবল কতক অপসৃয়মাণ সংবেদনশীলতা থেকে উৎসারিত; কর্পোরেটিস্ট ‘তথ্যবিনোদন’ শিল্প কর্তৃক-যা এখনো অশিক্ষিত সাধারণ লোকদের কাছে আরো বেশি ‘ব্রান্ডেড্’ সাবান, ফাস্ট্ ফুড ও সোডা পপ্ বিক্রির লক্ষ্যে এবং সেই সাথে কর্পোরেট মহল যে আমেরিকা-নিয়ন্ত্রিত নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে সে ফ্যান্টাসিকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে- আমেরিকানদের মন-মগযে ‘অধিকার’ সংক্রান্ত এ ধারণা বপন করে দেয়া হয়েছে।
ধর্মসম্পর্কহীন (সেক্যুলারিস্ট) লোকেরা অধিকন্তু ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে, তাদের ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থাকে ধর্মীয় নির্দেশনার অধীন করার জন্য সমালোচনা করছে। যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় সেই সব মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভূখ-খণ্ডে এটা খুব একটা মন্দ নয় যে সব ভূখ-খণ্ডে জনগণ এখনো ইসলামি শাসন ব্যবস্থার আস্বাদন করতে সক্ষম হয় নি। তাছাড়া ঐ সব ভূখ-খণ্ডে এমন ‘পরহেযগার’ মুসলমানের অভাব নেই যারা নিজ নিজ দেশের ধর্মসম্পর্কহীন (সেক্যুলার) সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে গল্পের নায়কদের ন্যায় রাতারাতি প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হয়েছে, তেমনি তাদের পাশাপাশি রয়েছেন এমন একদল আলেম যাঁরা আলে সউদের অর্থের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে থাকেন- এ দুই গোষ্ঠী মিলে তাদের বাতিল ও বিভ্রান্তিকর চিন্তার সাহায্যে আটলান্টিক বিশ্বের ধৃষ্টতাকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ দু’টি গোষ্ঠী জোর দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, ইরানের ইসলামি বিপ্লব রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে ইসলামের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
তবে আমেরিকানদের জন্য তাদের এতো সব সন্দেহাতীত ভুল-ত্রুটির কারণে, এখন চূড়ান্ত উপসংহারে উপনীত হতে না পারলেও অন্ততঃ নিজেদের ভুলগুলো সংশোধেনের সময় এসেছে বলে মনে করি।
সে যা-ই হোক, কতক মুসলমানের পক্ষে হয়তো এটা অনুধাবন করা সম্ভব হয়ে থাকবে যে, বেলায়াতে ফকীহ্ [একজন পথনির্দেশক বা অভিভাবক মুজতাহিদ কর্তৃক শারীয়ার ভিত্তিতে শাসন কর্তৃত্ব পরিচালনা] তত্ত্ব কোনোভাবেই ‘ইমামের আগে আসবে ঈমান’ ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। অবশ্য এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝার জন্য বেলায়াতে ফকীহ্ তত্ত্ব সম্পর্কে এবং তা কীভাবে প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করা হয়েছে সে সম্পর্কে অধ্যয়ন ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এ হচ্ছে এমন একটি কাজ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অধিকাংশ র্ফিকাবায মুসলমান হয় তা করতে প্রস্তুত নয়, অথবা তা করার মতো যোগ্যতার অধিকারী নয়, তাই তারা এর পরিবর্তে ‘অনুসন্ধানের আগেই নিন্দা করা’র নীতি অনুসরণকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
প্রকৃতপক্ষে বেলায়াতে ফকীহ্ হচ্ছে এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যাতে জনগণের সচেতনতার একটি ভূমিকা রয়েছে; বিশেষ করে জনগণ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নিজেরাই উপসংহারে উপনীত হয়ে থাকে, অন্যদিকে বাস্তবতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটা সুস্পষ্ট যে, একজন সর্বোচ্চ মুজতাািহদ নেতৃত্ব ব্যতীত কেবল চেষ্টা-সাধনা ও ত্যাগ স্বীকারের ফলেই ইরানের ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হওয়া সম্ভবপর ছিল না- যে বিপ্লব সংঘটনের লক্ষ্য ছিল : (১) ‘নিপীড়ক শাসক শ্রেণি কর্তৃক দুর্বল করে রাখা জনগোষ্ঠীর অধিকারের সীমারেখা লঙ্ঘন’কে এবং ‘তাদের (শাসকগোষ্ঠী ও তাদের বশংবদ শ্রেণির) ভোগ-বিলাসিতা ও পার্থিব স্বার্থের জন্য জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও তাদেরকে অনাচারে নিমজ্জিতকরণ’ প্রতিহত করা, (২) ‘তাঁবেদার পুতুল পার্লামেন্ট কর্তৃক অনৈসলামিক আইন অনুমোদন ও ইসলামি বিধি-বিধানে বিদ্‘আত্ প্রবেশ করানো’ রোধ করা, (৩) ইসলামি ব্যবস্থার হেফাযত করা ও সকল ব্যক্তিকে গোমরাহী থেকে রক্ষা করে ইসলামের সঠিক পথে ধরে রাখা, এবং (৪) ইসলামি ভূখ-সমূহে বিজাতীয় প্রভাবের বিলুপ্তি সাধন করা।
যেসব মুসলমান বেলায়াতে ফকীহ্ তত্ত্বের কারণে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে আপত্তি তুলছেন তাঁদের উচিত তাঁদের নিজেদেরকে আন্তরিকভাবে প্রশ্ন করা যে, তাঁদের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয় কোনটি এবং তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কি প্রকৃত ইসলামি আশা-আকাক্সক্ষা, নাকি তাঁদের মাযহাবী বা ধর্মসম্পর্কহীন (সেক্যুলার) লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ?
এ আলোচনার উপসংহারে বলতে হয় যে, ইরানের ইসলামি বিপ্লব-প্রকৃতপক্ষে স্বয়ং ইসলামের বিশ্বজনীন বাণী-ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তিশীল, পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষদের ও নারীদের আশা-আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে সজ্ঞায়িত নয়, বরং তা স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলার পছন্দের দ্বারা সংজ্ঞায়িত। সুতরাং আমরা দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করি যে, ইসলাম ও ইরানের ইসলামি বিপ্লব উভয়ই চিরদিন টিকে থাকবে এবং যেসব চক্রান্তকারী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাফল্য ও অর্জনসমূহকে নিষ্ফল করে দেয়ার ও যা লিপিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে তা মুছে ফেলার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এসব অর্জন তাদের হস্তক্ষেপ ক্ষমতার আওতার বাইরেই থেকে যাবে। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এক সময় যা অসম্ভব বলে পরিগণিত হতো ইরানে তা-ই সম্ভব হয়েছে এবং এরপর তা টিকে গিয়েছে, আর এটাই আমাদেরকে এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছে।
সুতরাং, আল্লাহ্ তা‘আলার নামে আমরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে অভিবাদন জানাচ্ছি। তেমনি আমরা ইরানি জনগণের দৃঢ় ইচ্ছার প্রতি এবং ইসলামি বিপ্লবে নেতৃত্ব দান ও প্রায় দীর্ঘ চার দশক যাবত যে কোনো পন্থায় ও যে কোনো মূল্যে ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের তাঁবেদার সরকারগুলোর পক্ষ থেকে বিরামহীন অপচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও ইসলামি শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার মাধ্যমে উত্তরোত্তর সাফল্য সহকারে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অভিমুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দৃপ্ত অভিযাত্রা নিশ্চিতকরণে সক্ষমতার কারণে আয়াতুল্লাহ্ উযমা হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.) ও হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর প্রজ্ঞাপূর্ণ, আপোসহীন, দৃঢ় ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের প্রতি অভিবাদন জানাচ্ছি।
অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী
*অত্র নিবন্ধে লেখক ব্যারি কে. গ্রোস্ম্যান্ যেসব মতামত ব্যক্ত করেছেন তা একান্তভাবেই তাঁর নিজস্ব মতামত; তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে নিউজলেটার কর্তৃপক্ষের, বা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের, বা হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর বা রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী-র মতের হুবহু প্রতিফলন ঘটে থাকবে- এটা অপরিহার্য নয়।
* ব্যারি কে. গ্রোস্ম্যান্ ১৯৮৪ সালে ক্যানাডার ইউনিভার্সিটি অব্ ক্যাল্গারী থেকে বি.কম. ডিগ্রি এবং এরপর ১৯৮৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে এল্.এল্.বি ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর তিনি টরোন্টোর একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ল ফার্মে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন এবং এরপর ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন ও সেখানকার ইউনিভার্সিটি অব্ মেল্বোর্ন-এর ল ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি কয়েক বছর দ্য ন্যাশনাল্ অস্ট্রেলিয়ান্ ফার্ম অব্ ফ্রীউইল্, হোলিংডেল্ এন্ড্ পেজ-এ আইন উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অতঃপর তিনি মোনাশ ইউনিভার্সিটির ল ফ্যাকাল্টিতে সার্বক্ষণিক প্রভাষক হিসেবে চাকরি নেন। তিনি আইন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন এবং রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদিতে ফ্রীল্যান্স ভাষ্যকার হিসেবে লিখে থাকেন। তিনি একজন মুসলমান এবং ১৯৯৯ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ায় বসবাস করে আসছেন।