বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

ইরানি কালচারাল কাউন্সেলরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সফর

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩১, ২০১৬ 

news-image

ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর গত ২৮ আগস্ট ২০১৬ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সফর করেন। তাঁর সফরসূচির মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পরিদর্শন, কলা অনুষদের ডীনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ভাষা বিভাগ (ফারসি) পরিদর্শন ও বিভাগের উদ্যোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাহিত্যসভায় অংশগ্রহণ। সম্মানিত কালচারাল কাউন্সেরের সফরসঙ্গীদের মাঝে ছিলেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ডেপুটি কাউন্সেলর জনাব আসগার খসরুয়াবাদী ও শিক্ষা বিভাগের ইনচার্জ ড. জহির উদ্দিন মাহমুদ।

thumbnail_IMG_4015

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজানুদ্দিন এর সাথে কালচারাল কাউন্সেলরের মতবিনিময়ের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সরওয়ার জাহান এবং ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাকালে ড. মিজানুদ্দিন বলেন, বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বরেণ্য কবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের কবিতায় ফারসি সাহিত্যের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আমরা অবচেতনভাবেই ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত। ইরান ও এশিয়া মাইনর সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী। এর ভাষা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরাও। তিনি বলেন, নিকট অতীতে আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শুধু পাশ্চাত্যের পরিচিতি ও বিনিময় অব্যাহত ছিল, কিন্তু আজ ভারত, ইরানসহ প্রাচ্যের ওপর পড়াশুনা ও বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূরাজনীতির কারণে সম্পর্কের ওঠানামা হলেও ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না- সে সম্পর্ক রক্ত-সম্পর্কের মতো। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষার শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম উন্নয়নে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে সম্ভাব্য সবকিছু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাননীয় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য উভয়ই ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসরমান ইরানের উদ্যোগে অন্যান্য বিভাগের সাথেও বিনিময় কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। মাননীয় কালচারাল কাউন্সেলর ইরান ও বাংলাদেশের অব্যাহত সুসম্পর্ককে আরো জোরদার করতে একসাথে কাজ করার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।

thumbnail_IMG_4062

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পরিদর্শনকালে গ্রন্থাগারে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ১ সেট বই প্রদান করা হয়। এসময় গ্রন্থাগারের প্রধান প্রশাসক প্রফেসর ড. শফিকুন্নবী সামাদী গ্রন্থাগারে অডিও-ভিজুয়াল বিভাগে ইরানি চলচ্চিত্র, নাটক, মিউজিক ও বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দিয়ে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মনোজ্ঞ সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয় কলা অনুষদের ডীন্স কমপ্লেক্সের হল রুমে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আতাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এফ. এম. এ. এইচ তাকী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালচারাল কাউন্সেলর জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী।

12_286629

সভায় বক্তব্য রাখেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ডেপুটি কাউন্সেলর জনাব আসগার খসরুয়াবাদী, প্রফেসর শামীম খান, প্রফেসর ড. নুরুল হুদা ও প্রফেসর ড. কামালউদ্দিন। বর্ণাঢ্য এই সাহিত্যসভায় ভাষা বিভাগের (ফারসি) ছাত্রছাত্রীদের উপস্থাপনার মধ্যে ছিল মহাকবি সাদী, হাফিয ও সমকালীন ইরানি কবিদের কবিতা থেকে আবৃত্তি, বিভাগের শিক্ষক ও ইরানি মেহমানদের উদ্দেশে নিবেদিত স্বরচিত সমবেত সংগীত পরিবেশনা, ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা, কৌতুক ও নাটিকা পরিবেশনা। আর এই বৈচিত্র্যময় সব উপস্থাপনাই হয়েছে ফারসিতে।

11_286628

ভাষা বিভাগের বিভিন্ন ভাষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মুহুর্মূহু করতালির মাধ্যমে ফারসিতে সকল পরিবেশনা উপভোগ্য হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রফেসর তাকী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ইরানের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ধর্মীয় শিক্ষা সবই বিশ্বসভ্যতায় বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে কল্যাণকর ভূমিকা রেখেছে। জনাব সাইয়্যেদ মূসা হোসেইনী ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ইরানে উচ্চতর কোর্সে অংশগ্রহণে সহায়তা, ইরান স্টাডিজ রুম প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা, ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

9_286626

5_286622

6_286623

14_286631