রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

ইমাম হুসাইন (আ.) ও আশুরা বিপ্লব সম্পর্কে কিছু অম্লান উক্তি-১

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৬ 

news-image

বিভিন্ন যুগে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত মনীষী, নেতা এবং নানা ধর্ম ও মতের অনুসারী খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়ক ইমাম হুসাইন (আ.) ও আশুরা বিপ্লব সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ মতামত ব্যক্ত করেছেন। এইসব বক্তব্য ও মন্তব্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত কিছু উক্তি বা মন্তব্য এবং আশুরা সংক্রান্ত কিছু ইসলামী বর্ণনা এখানে তুলে ধরা হল:

** হযরত আদম (আ.), ইব্রাহিম (আ.), ঈসমাইল (আ.), মুসা (আ), জাকারিয়া (আ.) ও দাউদ (আ.)সহ অতীতের সকল বড় নবী-রাসূলের কাছে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছিল এবং তাঁরা ভবিষ্যতের ওই ঘটনা শুনে কেঁদেছিলেন বলে ইসলামী বর্ণনা রয়েছে।

** সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও মানব জাতির মুক্তির দিশারী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.):

তিনি বলেছেন, হুসাইন আমা থেকে ও আমি হুসাইন থেকে। বিশ্বনবী (সা.) আরো বলেছেন, তাঁকে মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে শাহাদতের মাধ্যমে হুসাইন (আ.) এমন এক মর্যাদা পাবেন যে তার কাছাকাছি যাওয়া অন্য কারো জন্য সম্ভব হবে না”।

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, “নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে হুসাইনের (আ.) শাহাদতের ব্যাপারে এমন ভালবাসা আছে যে, তার উত্তাপ কখনও প্রশমিত হবে না।” যারা হুসাইনের জন্য কাঁদবে তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদও দিয়ে গেছেন বিশ্বনবী (সা.)।

** আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.):

“তোমার প্রশংসা হে কারবালার মাটি! তুমি একদল লোকের সাহচর্য পাবে যারা কোনো হিসাব ছাড়াই বেহেশতে প্রবেশ করবে।”

তিনি আরো বলেছেন: “হায় আমার কাছে আবু সুফিয়ান (ইয়াজিদের দাদা) ও হারব কি চায় যে তারা একদল শয়তান হয়ে অবিশ্বাসের বন্ধু হয়েছে? হে আবা আবদিল্লাহ (ইমাম হুসাইন-আ.)! ধৈর্য ও সহনশীলতায় অবিচল থেকো। তোমার বাবা সব দেখতে পাচ্ছেন যা তোমার ওপর আপতিত হবে।”

আলী (আ.) কারবালার ঘটনার বহু বছর আগে কারবালার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আশুরার দিন যা ঘটবে তা নিয়ে এত কেঁদেছিলেন যে তাঁর পবিত্র দাড়ি ভিজে গিয়েছিল। সঙ্গী ইবনে আব্বাসও সে সময় কেঁদেছিলেন।

** হযরত ফাতিমার (সা.) ওসিয়ত

পরপারে পাড়ি জমানোর প্রাক্কালে ফাতিমা জাহরা (সা.) ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন নিজের মেয়ে জয়নাব (সা.)-কে: হুসাইন যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যুদ্ধে যাবে তখন তাঁর গলায় একটি চুম্বন দিও। জয়নাব (সা.) মায়ের সেই ওসিয়ত পালন করেছিলেন।

** হুসাইন (আ.)-কে সম্বোধন করে হযরত ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন:

আমার ওপর যা ঘটবে তা হলো প্রাণনাশক বিষ, কিন্তু আমার দিনগুলোর কোনোটিই তোমারগুলোর মত হবে না। আমাদের নানার অনুসারী হবার দাবিদার ত্রিশ হাজার লোক একত্রিত হবে তোমাকে আক্রমণ করতে ও তোমার রক্ত ঝরাতে এবং পবিত্রতা নষ্ট করতে ও তোমার নারীদের আর শিশুদের বন্দি করতে। তোমার তাঁবুগুলোও তারা লুট করবে। সে সময় আল্লাহর গজব বনি উমাইয়ার ওপর নাজেল হবে, আকাশ থেকে রক্তের বৃষ্টি ঝরবে এবং সব কিছুই তোমার জন্য বিলাপ করবে, এতই বেশি যে বনের হিংস্র পশুরা ও নদীর মাছও তোমার দুঃখ-কষ্টের জন্য কাঁদবে।

** কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়ক ইমাম হুসাইন (আ.):

যখন কুরাইশরা পূজা করত দুই মূর্তি লাত ও উজ্জার তখন আমার বাবা নামাজ পড়েছেন দুই কিবলার দিকে ফিরে। আমার বাবার হলেন সূর্য, মা হলেন চাঁদ, আর আমি এক নক্ষত্র, দুই চাঁদের সন্তান।… আমার নানা আল্লাহর রাসূল –সবার চেয়ে সম্মানিত।.. আমরা সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর বাতি। ..আমরা কাউসারের ওপর কর্তৃত্ব রাখি।..দুর্ভোগ তোমাদের ওপর হে আবু সুফিয়ানের পরিবারের অনুসারীরা, যদি তোমরা অধার্মিকও হয়ে থাক ও কিয়ামতকে ভয় না পাও, অন্ততঃ স্বাধীন চিন্তার অনুসারী হও।

তিনি আরো বলেছেন: “(সাধারণ) জনসাধারণ দুনিয়ার গোলাম। তারা ধর্মকে জিহ্বার মধ্যেই সীমিত রাখে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জানে যে এ ধরনের ধর্ম চর্চা তাদের জীবনে কোনো ক্ষতি বয়ে আনবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ধর্মের চারপাশে ঘুরাফেরা করবে। কিন্তু যখন তারা কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হয় তখন খুব কম সংখ্যকই ধর্মের পথে অবিচল থাকে।”

ইমাম আরো বলেছেন, যারা আমাদের সাহায্যের ডাক শুনতে পেয়েও আমাদের সাহায্য করছে না, তারা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। (যারা ইমামকে ও তাঁর পরিবার এবং সঙ্গীদের হত্যায় জড়িত ছিল বা এ কাজে সহায়তা করেছে তা অবস্থা কি হবে তা এ বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়।)

**বালক বীর হযরত কাসিম বিন হাসান (আ.):

‘ন্যায় ও সত্যের পথে মৃত্যু বরণ আমার কাছে মধুর চেয়েও মিষ্টি’

**কারবালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহীদ হযরত সাঈদ বিন আবদুল্লাহ হানাফি (রা.):

আশুরার পূর্বরাতে ইমামের পক্ষ থেকে পালানোর অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও  বললেন, প্রিয় ইমাম ! খোদার কসম আপনাকে রেখে আমরা কোথাও যাবো না । আপনার জন্যে যদি নিহত হই এবং জীবন্ত দগ্ধ হই এবং তা যদি ৭০ বারও হয় তবুও আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না । আপনি মরে যাবেন আর আমরা বেচে থাকব এ কি করে হয় !

**কারবালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহীদ যুহাইর ইবনে কাইন (র.):

আশুরার পূর্বরাতে ইমামের পক্ষ থেকে পালানোর অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও  উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে মহানবীর প্রিয় সন্তান, আপনি ও আপনার পরিবারকে রক্ষার জন্যে আমাকে যদি হাজারবারও মেরে ফেলা হয় তাহলেও আমি আপনাকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ করব ।

**হযরত জয়নাব বিনতে আলী (আ.):

“কারবালায় যা কিছু দেখেছি (ইমাম শিবিরের দিক থেকে ও ইয়াজিদ শিবিরের মোকাবেলায়) তাতে সৌন্দর্য বা সর্বোত্তম বিষয় ছাড়া অন্য কিছু দেখিনি।”

তিনি ইয়াজিদের দরবারে বলেছেন: “যদিও ঘটনাচক্রে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাকে খুবই তুচ্ছ ও নীচ মনে করি এবং তোমাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করছি ও অনেক বেশি নিন্দা করছি, কিন্তু (আমার ভাইয়ের হত্যার কারণে মুসলমানদের) দৃষ্টিগুলো অশ্রুসজল আর হৃদয়গুলো কাবাবের মত দগ্ধীভূত।”

**ইয়াজিদের দরবারে হযরত আলী ইবনে হুসাইন আল জয়নুল আবেদিন (আ.):

আমি হুসাইনের সন্তান যাকে কারবালায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি আলীর সন্তান যিনি মুর্তাজা (অনুমোদনপ্রাপ্ত), আমি মুহাম্মদের সন্তান যিনি বাছাইকৃত, আমি ফাতিমাতুজ জাহরার সন্তান, আমি সিদরাতুল মুনতাহার সন্তান, আমি শাজারাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় গাছের সন্তান, হযরত খাদিজা (সা.)’র সন্তান আমি, আমি এমন একজনের সন্তান যিনি তাঁর নিজের রক্তে ডুবে গেছেন, আমি এমন একজনের সন্তান যার শোকে রাতের আঁধারে জিনেরা বিলাপ করেছিল, আমি এমন একজনের সন্তান যার জন্য শোক প্রকাশ করেছিল পাখিরা।

আল্লাহর কসম এ পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই যার প্রপিতামহ হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), কেন এ লোকগুলো আমার পিতাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছে এবং আমাদেরকে রোমানদের মত বন্দী করেছে?…অভিশাপ তোমার (ইয়াজিদ) ওপর যেদিন আমার প্রপিতামহ ও পিতা তোমার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন।

**হযরত আলী (আ.)’র বিধবা স্ত্রী উম্মুল বানিন (সা.):

(তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইন (আ.)’র সত ভাই ও কারবালায় তাঁর প্রধান সেনাপতি হযরত আবুল ফজল আব্বাস (রা.)’র মাতা।)

ইমাম হুসাইন (আ.)’র শাহাদতের খবর শুনে তিনি বলেছিলেন: আমার হৃদয়ের সব ধমনী ছিঁড়ে গেছে। আমার সব সন্তান এবং নীল আকাশের নীচে থাকা সব কিছু ইমাম হুসাইন (আ.)’র জন্য কুরবানি হোক।

**বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ইমাম বাক্বির (আ.):

তিনি বলেছেন, রাসূলে খোদার (সা.) কবর জিয়ারত এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও শহীদদের কবর জিয়ারত মক্ববুল বা কবুল হয়েছে এমন হজের ও রাসূল (সা.)’র সঙ্গে হজ করার সমতুল্য।(মুস্তাদরাকুল ওয়াসায়েল। প্রথম খণ্ড, পৃ-২৬৬ এবং কামেল আজ জিয়ারত, পৃ-১৫৬)

ইমাম বাক্বির ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’র বর্ণনা অনুযায়ী কেউ বেহশতবাসী হতে চাইলে মজলুমের ( ইমাম হুসাইন-আ.) জিয়ারত যেন ত্যাগ না করেন।

** বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.):

“প্রতিটি ময়দানই কারবালা ও প্রত্যেক দিনই আশুরা।” নবীগণ ও ফেরেশতারা সব সময়ই ইমাম হুসাইন (আ.)’র মাজার জিয়ারতের জন্য মহান আল্লাহর অনুমতি নেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তাঁদের একদলের জিয়ারত শেষ হলে আরেক দল জিয়ারত করতে আসেন।

**বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ইমাম মুসা কাজিম (আ.):

মহান আল্লাহ একমাত্র কারবালার মাটিতে আমাদের তথা বিশ্বনবী (সা.)’র আহলে বাইতের অনুসারী ও বন্ধুদের জন্য রোগের শাফা বা আরোগ্য রেখেছেন, অন্য সব মাটি খাওয়া হারাম (এমনকি যদি তা আমার কবরের মাটিও হয়)।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম রেজা (আ.) তাঁর সাহাবী রাইয়ান ইবনে ইবনে শাবিবকে বলেছিলেন:

হে ইবনে শাবিব! আইয়ামে জাহিলিয়্যার যুগ তথা অজ্ঞতার যুগেও লোকেরা মহররম মাসে দমন-পীড়ন চালাত না এবং যুদ্ধ ও সংঘাতে লিপ্ত হত না। এসব ছিল সে সময় নিষিদ্ধ। অথচ (ইয়াজিদের যুগে) মুসলমানরাই এ পবিত্র মাসের ও তাদের নিজ নবী (সা.)’র প্রতি মর্যাদা দেখায়নি (কারবালার ঘটনা প্রবাহের সময়)। তারা এই মাসেই নবী(সা.)’র বংশধরকে হত্যা করেছে। …. আল্লাহ তাদের কখনও ক্ষমা করবেন না।

হে ইবনে শাবিব! তুমি যদি কাঁদতে চাও, তাহলে হুসাইনের (আ.) জন্য কাঁদ যাকে হত্যা করা হয়েছিল ভেড়ার মত (তাও পানি না দিয়ে)। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে। তাঁর সঙ্গে হত্যা করা হয়েছিল এমন ১৮ ব্যক্তিকে বিশ্বে যাদের সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। সাত আকাশ ও সাত জমিন তাঁর শাহাদতে শোক প্রকাশ করেছে।

হে ইবনে শাবিব! যদি তুমি ইমাম হুসাইন (আ.)’র জন্য এমনভাবে কাঁদ যে তোমার গণ্ডদেশ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তাহলে আল্লাহ তোমার সব ছোট বড় গোনাহ মাফ করবেন তা সেইসব গোনাহর সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন।

হে ইবনে শাবিব! যদি তুমি নিষ্পাপ অবস্থায় মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাও তাহলে ইমাম হুসাইন (আ.)’র মাজার জিয়ারত করতে যাও।

হে ইবনে শাবিব! যদি তুমি বেহেশতে আমাদের সঙ্গে উচ্চ মর্যাদা নিয়ে থাকতে চাও তাহলে আমাদের দুঃখে দুঃখী এবং আমাদের সুখে সুখী হও।

**শহীদ মুখতার সাকাফি (র.):

ইমাম হুসাইন (আ.)’র প্রধান ঘাতকদের প্রায় সবাইকে হত্যার পর তিনি বলেছিলেন : গোটা কুরাইশ জাতিকে হত্যা করা হলেও ইমাম হুসাইন (আ.)’র চারটি আঙ্গুলের ক্ষতিপূরণ বা বদলা নেয়া হবে না।

**ইমাম শাফেয়ীর (র.) শোকের কবিতা :

“আমার বেদনার প্রতিক্রিয়ায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে গেল এবং আমার নিদ্রা হরণ করে নিল, এরপর নিদ্রা যে কতদূর?…. কে আমার বাণীকে হুসাইনের কাছে পৌঁছে দেবে?… আলে মুহাম্মাদের (মুহাম্মাদের বংশধরদের) জন্য দুনিয়া প্রকম্পিত হবে, যেহেতু অচিরেই তাঁদের (বেদনার) কারণে পাহাড়গুলো বিগলিত হবে… মুহাম্মাদের বংশধরদের জন্য ভালবাসা যদি গুনাহ হয়ে থাকে তবে এ হচ্ছে সেই গোনাহ যা থেকে আমি কখনও তওবাহ করব না। কিয়ামতের দিন তারাই আমার শাফায়াতকারী যেদিন আমার গোনাহর পরিমাণ হবে অনেক বেশি; সেদিন তাঁরাই হবেন আমার সাহায্যকারী।”

** খাজা মুইনউদ্দিন চিশতি (র.)’র কবিতা:

হুসাইন (আ.) (মুহাম্মদী) ধর্মের কর্ণধার বাদশাহ তুল্য, ধর্ম বলতে হুসাইনকেই বোঝায়, তিনি হলেন ধর্মের আশ্রয়। শির উতসর্গ করলেন কিন্তু বাইআত হলেন না ইয়াজিদের হাতে। তাই বাস্তবিকই বলা যায়, হুসাইন লা-ইলাহা ভিত্তিমূল। হে নবী-দুলাল, তোমার মস্তকেই নবির মুকুট শোভা পায়, হে সম্রাট, তোমার তরবারি নবীর (সা.) ন্যায়-বিচারের প্রতীক। .. যে কাজ কোনো নবীরা করার সুযোগ পায়নি, খোদার কসম, হুসাইন তুমি সে কাজ করেছ। (দিওয়ানই খাজা মুইনউদ্দিন চিশতি)

সূত্র: পার্সটুডে