ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর বাণী থেকে
পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৬, ২০১৩

‘…আমি সবাইকে বলছি : একটা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো, সুন্নি-শিয়া, আরব-অনারব, তুর্কি-অতুর্কি কেউ কারো উপর অগ্রাধিকার পাবে না। পবিত্র কুরআন কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে শুধু ন্যায়পরায়ণতা, খোদাভীতির (তাকওয়া) কারণে। খোদাভীরু ও সৎ স্বভাবসম্পন্ন লোকেরা রাষ্ট্রে ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত থাকলে সকল সুবিধাবাদ ও কায়েমী স্বার্থ নির্মূল হতে বাধ্য। কেউ কারো চেয়ে বড় নয়। সবাইকে সমান অধিকার দেয়া হয়েছে। ইসলাম তাদেরকে সম্মান দিয়েছে। ইসলাম সকল শ্রেণি ও গোত্রকে মর্যাদা দিয়েছে। কুর্দিসহ অন্যান্য ভাষাভাষী সকলেই আমাদের ভাই। আমরা তাদের সাথে আছি এবং তারাও আমাদের সাথে রয়েছে। আমরা সকলে একই ঈমানের সূত্রে বাঁধা এক জাতি।’ (ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বাণী : ৩ -৪-৭৯ ইং)
‘ঐক্য হচ্ছে এমন একটি আদর্শ যার দিকে পবিত্র কুরআন মানুষকে নির্দেশনা দিয়েছে এবং মহান ইমামগণও মুসলিমদের ঐক্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত ইসলামের প্রতি আহ্বান মানেই হচ্ছে ঐক্যের প্রতি আহ্বান, জনগণকে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান। আপনারা জানেন যে, তারা (ইসলামের দুশমনরা) এ ধরনের ঐক্যকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে তারা কঠোরভাবে চেষ্টা করেছে যাতে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও বিরোধের আগুন প্রজ্বলিত হয়; কেননা, তাদের বিশেষজ্ঞগণ বুঝতে পেরেছে যে, যদি বিশ্ব-মুসলিম উম্মাহ সংহত ও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তাহলে কোন শক্তিই তাদের মোকাবিলা করতে ও তাদের উপর শাসন চালাতে সক্ষম হবে না। তাই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য তাদের সামনে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে অনৈক্যের বীজ বপন করা।’ (গিলান প্রদেশ ও রাসত শহরের জুমআর ইমামদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত বাণী থেকে)
‘…. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিশ্ব শোষকদের জন্য প্রধান ভীতির কারণ হচ্ছে ইসলাম। কেননা, ইসলামই হচ্ছে এমন শক্তি যা দুনিয়ার মুসলমানদেরকে তাওহীদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম। ইসলামই পারে মুসলিম দেশসমূহ ও দুনিয়ার বঞ্চিত মানুষের উপর থেকে বিশ্ব অপরাধীদের হস্তকে ধ্বংস করতে। ইসলামই পারে বর্তমান পৃথিবীর সামনে এক ঐশী প্রগতিশীল ও উচ্চতর চিন্তাধারা ও ব্যবস্থা উপস্থাপন করতে।’ (হজ যাত্রীদের প্রতি প্রদত্ত বাণী, ৬-৯-৮১ ইং)
বিশ্বজোড়া জালেম সম্প্রদায় চায় ইসলামকে ধ্বংস করতে যাতে আমাদের ইসলামী গুণাবলি বিনষ্ট হয়ে যায়। এখন আমাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করা উচিত নয়, যেখানে মুসলমানদেরকে কাফের, মুশরিক ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হচ্ছে। যদি একশ’ কোটি মুসলমান তাদের বিরাট এলাকাসহ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয় এবং একই ফ্রন্টে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে উপনিবেশবাদের দোসর কিছুসংখ্যক ইহুদি তো দূরের কথা, বিশাল ক্ষমতাধর উপনিবেশবাদীর পক্ষেও নিশ্চিতভাবে কোন মুসলিম দেশ আক্রমণ করা সম্ভব নয়।’ (বাংলাদেশী কতিপয় নেতার উদ্দেশ্যে বাণী : ১-৯-৮২ ইং)
‘এটা আজ সবার নিকট স্পষ্ট যে, এখন থেকে সমাজবাদ বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের যাদুঘরগুলোতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকবে, কেননা, মানব সন্তানদের সত্যিকারের প্রয়োজনের ব্যাপারে কোন উত্তর মার্কসবাদে নেই। কারণ, এটি একটি বস্তুবাদী মতবাদ এবং বস্তুবাদ দ্বারা বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতাবাদের অনুপস্থিতির সমস্যা থেকে মানবজাতি মুক্তি পেতে পারে না। অথচ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মানব সমাজেরও এটিই মৌলিক সমস্যা… যে ধর্ম ইসলামী ও অনৈসলামী দেশগুলোর বস্তুগত ও আধাত্মিক সম্পদসমূহ পরাশক্তিদ্বয় ও অন্যান্য শক্তির পকেটস্থ করার মাধ্যম হয় এবং গলাবাজি সহকারে এইটি বলে যে, ধর্ম রাজনীতি থেকে পৃথক- সেটা আফিম। তবে এটা কিন্তু সত্যিকারের ধর্ম নয়। এটা এমন এক ধর্ম যেটাকে আমাদের জনতা ‘মার্কিনী ধর্ম’ বলে আখ্যায়িত করে।’ (সাবেক সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট গর্বাচেভের কাছে প্রেরিত চিঠি থেকে)
(নিউজলেটার, ফেব্রুয়ারি ১৯৯২)