অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত
পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, কথাশিল্পী ড. আবদুস সবুর খান (সাকির সবুর) কর্তৃক অনূদিত ইরানের ৫০ জন কবির কবিতার সংকলন গ্রন্থ ‘সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।
‘শোভা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. হাসান সেহাত, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, জনপ্রিয় নাট্যকার ফেরদৌস হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল কালাম সরকার, ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. কাজেম কাহদুয়ি, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, কবি আমিন আল আসাদ, ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, লেখক, গবেষক কামাল মাহমুদ এবং শোভা প্রকাশের স্বত্তাধিকারী মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম বলেন, “পারস্যের সাথে আমাদের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক খুবই প্রাচীন। সুলতানী আমলে হাফিজের বাংলায় আমন্ত্রণের ইতিহাস আমরা জানি। হাফিজ এদেশে আসতে পারেননি কিন্তু তাঁর সাহিত্য এসেছে। তিনি সুলতান গিয়াস উদ্দীন আযম শাহের অসমাপ্ত কবিতা মিলিয়ে দিয়েছিলেন। হাফিজ অনুবাদ করেছিলেন আমাদের জাতীয় কবি নজরুল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইরানে গিয়েছিলেন হাফিজ সম্মেলনে যোগ দিতে। ইরানের কবি শেখ সাদী, রুমী, ওমর খৈয়াম আমাদের বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলা ভাষার সঙ্গে মিশে আছে অগণিত ফার্সি শব্দ। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের দেশের সাথে ইরানের সম্পর্কের কারণেই সেটি হয়েছে। বর্তমান সময়ে সে ধারাকে আরো সমুন্নত করে চলেছেন কথাশিল্পী আবদুস সবুর খান। যিনি ফার্সি ভাষায় একজন সুপণ্ডিত।”
ঢাকাস্থ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর ড. সাইয়্যেদ হাসান সেহাত সুসাহিত্যিক আলী ইমামের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরানের সাথে যুগ যুগান্তরের এই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। তিনি ড. আবদুস সবুর খানের এই অনুবাদ কর্মকে ‘অসাধারণ কর্ম’ উল্লেখ করে বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর, ফার্সি ভাষায় আমাদের জাতীয় কবি নজরুল সাহিত্যের অনুবাদক ও গবেষক কবি ড. কাজেম কাহদুয়ী বলেন, ড. আবদুস সবুর খানের ধারাবাহিক এই সব অনুবাদ কর্মের কারণে বাংলাদেশের লেখক গবেষক মহলে আধুনিক ইরানি সাহিত্য সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হচ্ছে যা চলমান সময়ে ইরান-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কে জোরদার করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার বলেন, গ্রন্থটি ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বেশ কাজে লাগবে।
জনপ্রিয় নাট্যকার ফেরদৌস হাসান ও কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার বইটির প্রচ্ছদ, অঙ্গসজ্জা, ও সফল কাব্যনুবাদের প্রশংসার সাথে সাথে বইটির বহুল প্রচার কামনা করেন।
সঞ্চালক কবি আমিন আল আসাদ বলেন, শিশু সাহিত্য ছড়া-কবিতার মাধ্যমে সাকির সবুর-এর লেখালেখির শুরু হলেও তার পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে কথাশিল্পে। তরুণ বয়সে লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আমি যখন অনেক দূরে’ পাঠকপ্রিয়তা প্রাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অনেক দিনের চেনা’ প্রকাশের মুহূর্তে তিনি বরেণ্য কথাশিল্পী মরহুম ড. হুমায়ুন আহমদ-এর সুনজরে আসেন। তিনি সবুরের গদ্যভাষার মাঝে অমিত সম্ভাবনার সন্ধান পান এবং তাঁকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ প্রদান করেন। বাংলা ভাষার প্রধান কবি ও কথাশিল্পী মরহুম আল মাহমুদ এবং কবি আল মুজাহিদী সাকির সবুর অনূদিত যথাক্রমে ‘জালালে আলে আহমদের নির্বাচিত গল্প’ এবং মুস্তফা মাস্তুর ‘খোদার চাঁদমুখে চুমু খাও’ শীর্ষক পরাবাস্তব উপন্যাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সবুরকে ‘ফার্সি সাহিত্যের একজন যথার্থ অনুবাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আবদুস সবুর খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ এবং কথাশিল্পী ড. হুমায়ুন আহমদ-এর গৌরীপুর জংশন’ উপন্যাসকে ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন। এছাড়া ইরানের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক বুজর্গে আলাভির ‘চেশমহয়াস’-এর অনুবাদ ‘তার চোখগুলো’, কথাসাহিত্যিক সাদেক হেদায়াত-এর কালজয়ী উপন্যাস ‘বুফে কুর’ (‘অন্ধ পেঁচা’) এবং মোহাম্মদ আলী জামাল জাদেহ’র কথাসাহিত্য ‘একদা এক সময়’ শিরোনামে প্রকাশ করে বাংলা ভাষায় আধুনিক ইরানি সাহিত্যকে সফলতার সাথে তুলে ধরেন। পার্সটুডে।